অনলাইনে হয়রানি ঠেকাতে ইমোর প্রাইভেসি মোড
নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্ধুদের সঙ্গে মেসেজে আড্ডা দিতে দিতে ফাইজার দিনটা যাচ্ছিলো অন্য সাধারণ দিনের মতোই। হঠাৎ করেই তার ইনবক্সে আসতে লাগল অচেনা সব নোটিফিকেশন—একটার পর একটা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার ইনবক্স ভর্তি হয়ে গেল অপরিচিত মানুষের মেসেজে।সম্পূর্ণ অপরিচিত এই মেসেজ প্রেরকদের মধ্যে কেউ কেউ ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছে, কেউ আবার সরাসরি অশোভন মেসেজ দিয়েছে, যে জায়গাটা ছিল বন্ধুদের সঙ্গে নিছক আড্ডার জায়গা, সেটাই মুহূর্তেই ফাইজার জন্য পরিণত হল অস্বস্তি আর আতঙ্কের জায়গায়। সাইবার-জগতে বারবার অযাচিত এ ধরনের হয়রানি প্রভাব ফেলছিল তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরেও। ঠিক তখনই তার মনে পড়ল তার বান্ধবীর বলা ইমোর প্রাইভেসি মোডের কথা। দ্বিধা না করে কয়েকটি ট্যাপ করেই ফিচারটি অ্যাক্টিভ করলেন ফাইজা।প্রাইভেসি মোড অ্যাক্টিভ করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অযাচিত মেসেজ আসা বন্ধ হল। পুরোনো হয়রানিমূলক মেসেজ মুছে ফেলতেই ইনবক্স আবার পরিষ্কার। স্বস্তির হাসি ফুটল তার মুখে। মনে হল, দীর্ঘ ভোগান্তির শিকার হতে পারতেন, কিন্তু অল্পতেই পরিত্রাণ পেলেন। ছোট্ট একটা সিদ্ধান্ত, আর ইমোর প্রাইভেসি মোডের সাহায্যে ফাইজা তার সাইবার-জগতে সুরক্ষা নিশ্চিত করলেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি, ফাইজার এ অভিজ্ঞতা কিন্তু তার একার নয়। অনলাইন, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছেন। অচেনা নম্বর থেকে অশালীন ও অযাচিত মেসেজ, ছবি কিংবা ভিডিও ও অশোভন প্রস্তাব—অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার তালিকা বেশ বড়। এতে যে শুধু মাত্র নারীদের আত্মসম্মান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় তা নয়, বরং ভীষণ পরিচিত ও স্বাচ্ছন্দ্যের অনলাইন জগৎ মুহূর্তের মধ্যেই তাদের জন্য ভয় ও আতঙ্কে পরিণত হয়। এ ধরনের সাইবার সহিংসতার কারণে নারীরা অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে চলেন। কারও মধ্যে পরিচিতজনের সাথে অনলাইনে কথা বলতেও এক ধরনের ভীতি কাজ করে, আবার অনেকের মনের মধ্যে অনলাইন জগতে নারীদের সুরক্ষা নিয়ে সার্বক্ষণিক এক উদ্বেগ ও ভয় কাজ করে।ইমোর প্রাইভেসি মোড অনলাইনে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ভোগান্তির বিরুদ্ধে এক কার্যকরী হাতিয়ার। সাধারণ ফিচারগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, এই প্রাইভেসি মোড নারীদের সাইবার সুরক্ষা প্রদানের বিষয়টি মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রাইভেসি মোড এক ধরনের ঢাল হিসেবে কাজ করে।প্রাইভেসি মোড অন থাকলে ব্যবহারকারীরা সহজেই নির্ধারণ করতে পারবেন কারা তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন, আর কারা পারবেন না। এ ফিচার অবাঞ্ছিত কল বা মেসেজ নিজে থেকেই আটকে দেয়, ফলে অনলাইন আড্ডা বা জরুরি মেসেজ আদান-প্রদানের সময় আর থাকে না কোনো অস্বস্তি বা হয়রানির আশঙ্কা। এ ফিচার যে কোনো সম্ভাব্য সাইবার হয়রানি আটকায়, যা ব্যবহারকারীদের দেয় বাড়তি সুরক্ষা ও নিশ্চিন্তে কথা বলার সুযোগ। নিরাপদে যোগাযোগের ইমোর এই ফিচার ব্যবহারকারীদের দেয় অনলাইনে সুরক্ষিত থাকার আশ্বাস এবং বাধা ও হয়রানিবিহীন যোগাযোগের স্বস্তি। প্রযুক্তির কল্যাণে যোগাযোগ এখন আরও সহজ ও নিরবিচ্ছিন হলেও, অনলাইন জগতে নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো প্রায় অনুপস্থিত। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে, ইমো নিজেদের শুধু মাত্র একটি মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখাতে চায় না। ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা তাদের অগ্রাধিকার; ইমোর প্রাইভেসি মোড ব্যবহারকারীদের এই নিশ্চয়তাই দেয়, যাতে তারা মুক্তভাবে কথা বলতে পারেন এবং অনলাইনে বিচরণ করতে পারেন কোন ধরনের ভীতি ও হয়রানির শঙ্কা ছাড়াই। ফাইজা আর তার মত আরও অনেকের জন্য এই প্রতিশ্রুতিটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহারকারীদের সুবিধা ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে যখন কোন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়, তখন সেটি শুধু মাত্র মানুষকে যুক্ত করে না, পাশাপাশি সুরক্ষাও দেয়। ইমোর প্রাইভেসি মোড ব্যবহার করে প্রত্যেক ব্যবহারকারীই নিজেদের জন্য অনলাইন জগতকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত করতে পারেন।