ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা হবে। বর্তমান ১৩-১৪ শতাংশ সুদের হারে অর্থায়ন নিয়ে টেক্সটাইলের মতো শিল্প টিকে থাকা সম্ভব নয়।গতকাল ২৯ এপ্রিল বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সপোর (বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ও ইনফোরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে প্রদর্শনীটি ২ মে পর্যন্ত চলবে। এতে টেক্সটাইল, নিটওয়্যার এবং গার্মেন্ট খাতের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের সভাপতিত্বে¡ প্রদর্শনীর আহ্বায়ক ফজলে শামীম এহসান এবং ইনফোরচেইনের নির্বাহী পরিচালক স্পেনসার লিন বক্তব্য রাখেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে জ্বালানিসংকট ও উচ্চ সুদের হার এ খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের সুদের হার হয়তো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর বা পুঁজিঘন শিল্পের জন্য সহনীয় হতে পারে, কিন্তু আমাদের মতো শ্রমনির্ভর ও স্বল্প মুনাফার শিল্পের জন্য নয়।জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটলে শিল্প উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জরুরিভিত্তিতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেখানে বেসরকারি খাত অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এবং সরকার নীতিগত ও লজিস্টিক সহায়তা দেবে।তিনি আরও বলেন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সরল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একটি নতুন ব্যবসা শুরু করতে প্রায় ২৫-২৬টি লাইসেন্স নিতে হয়, যা পেতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চালুর করতে যাচ্ছি, যেখানে আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে প্রভিশনাল অনুমোদন দেওয়া হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারেন। এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ প্রায় ২৮টি দেশের ৯০০ প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। আইসিসিবির প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ১ হাজার ২০০টি বুথে কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বাধুনিক পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট খাতের উন্নত যন্ত্রপাতি, ডাই ও কেমিক্যালস, নিটিং প্রযুক্তি, অ্যামব্রয়ডারি, কাটিং ও সেলাই যন্ত্র, ওয়াশিং ও ড্রাই ক্লিনিং প্রযুক্তিসহ নানা উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরা হচ্ছে।
৩০ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:৩৮:৪৩