• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২০শে চৈত্র ১৪৩২ রাত ০৯:০৩:৫১ (03-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:

বকশিগঞ্জের চরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ মাঠে লাল গালিচা

৩ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:৪০:৫৯

বকশিগঞ্জের চরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ মাঠে লাল গালিচা

বকশিগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলা চরাঞ্চল গুলোতে লাল গালিচায় যেন ঢেকে গেছে উপজেলার সর্বত্র মাঠ জুড়ে । মাঠে-ঘাটে ক্ষেতের পাশে যেখানেই ফাঁকা, সেখানেই লাল গালিচা মত দেখালেও সেটা কিন্তু একান্ত লালগালিচা নয়। ক্ষেতের পাশে কিংবা মিলের চাতালে মরিচ শুকানোর দৃশ্য। এভাবেই চলছে বকশিগঞ্জের চরাঞ্চলের মরিচ সংগ্রহ ও শুকানোর হিড়িক।

বাজারে দাম ভালো, তাই কৃষক কৃষাণীরা পরিবারের সবাইকে নিয়ে ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ আর শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ধান গম পাট ভুট্টা ইত্যাদি চাষ করে যেখানে কৃষকেরা প্রতি বছর লোকসান গুনছেন সেখানে একমাত্র মরিচ চাষ করে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।

Ad
Ad

লাল মরিচের রঙের সাথে এবার বকশিগঞ্জ উপজেলার কৃষকের ভাগ্যও লাল হয়ে উঠেছে। তাইতো কৃষকের পরিবারগুলো এখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে সাচ্ছন্দে চলার আর পাকা বাড়ি ঘর নির্মাণের। কেউ স্বপ্ন দেখছেন মরিচের লাভের টাকা দিয়ে  মেয়েকে ভাল ঘরে বিয়ে দেয়ার।
চলতি বছর বকশিগঞ্জ উপজেলার ১৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু চাষিরা লক্ষ্যমাত্রার চাইতে অতিরিক্ত ১০হেক্টর জমিতে মরিচ রোপন করে। অর্থাৎ ১৮০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়।

Ad

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চাষ জমি হতে ৫১৫ মেট্রিক টন শুকনা মরিচ উৎপাদন হবে যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উপজেলার বাইরে বিক্রি করা হবে।

বাঙালপাড়া গ্রামের কৃষক মিনাল শেখ জানান, বকশিগঞ্জ  উপজেলার কৃষকেরা ধান, গম, পাট, ভুট্টা, ইত্যাদি চাষ করে যেখানে লোকসান গুনছেন, সেখানে একমাত্র মরিচ চাষ করে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন। তাই এ উপজেলার চাষিরা মরিচ আবাদকে ঘাটতি পূরণের ফসল হিসেবে বিবেচনা করছেন। সেজন্য গাছে থোকায় থোকায় মরিচ পাকায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলছে মরিচ সংগ্রহের প্রাণান্তকর চেষ্টা।

শেখপারড়া গ্রামের মরিচ চাষি নাজিম উদ্দীন জানান, এক বিঘা জমিতে বিন্দু ও জলশই জাতের মরিচ লাগানো, নিরানী, সেচ ও পরিচর্যা থেকে ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ পর্যন্ত ব্যয় হয় ১২-১৩ হাজার টাকা। আর ওই জমিতে মরিচ উৎপাদন হচ্ছে কমপক্ষে ১৫ মণ। প্রতিমণ মরিচ ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে বিঘা প্রতি মুনাফা অর্জন করছেন কমপক্ষে ৪৫-৫০ হাজার টাকা।

বর্তমানে প্রতিমণ জলসই তথা বড় আকারের শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেতে ৩২শ টাকা দরে এবং বিন্দু বা ছোট আকারের মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪২শ টাকার উপরে। বিন্দু সাইজে ছোট হলেও অতিরিক্ত ঝাল ও রঙ লাল টকটকে হওয়ায় চাহিদা বেশি এবং দামও তাই বেশি।

কৃষক  সুবাহান আলী জানান, এ বছর পোকার আক্রমণের কারণে মরিচের উৎপাদন খানিকটা কমে গেছে। তারপরও বাজারে এ বছর দাম ভাল পাওয়া যাচ্ছে বলে অন্যান্য ফসলের ঘাটতি পুষিয়ে নেয়া যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, এবারের মরিচের টাকা দিয়ে তিনি তার একমাত্র কন্যাকে ভাল ঘরে পাত্রস্থ করবেন।

এদিকে ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ কাজে ব্যাপকসংখ্যক নারী ও শিশু-কিশোরের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিজন শ্রমিক দিনে কমপক্ষে ৩/৪ মণ মরিচ তুলতে সক্ষম হচ্ছেন। প্রতি মণে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা হিসাবে দিনে আয় করছেন কমপক্ষে ৩শ টাকা থেকে ৪শ টাকা।

এ ব্যাপারে কৃষিবীদ আমিনুল ইসলাম জানান, মরিচ চাষ করে এ উপজেলার কৃষকেরা ভাল দাম পাওয়ায় তাদের আগ্রহ প্রকাশ পাচ্ছে। এ উপজেলার উৎপাদিত মরিচ উন্নত মানের হওয়ায় এর চাহিদা সর্বত্র বেশি। বিভিন্ন ফসলে লোকসান গুনলেও একমাত্র মরিচ চাষ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন। তাই এ ফসলটি অর্থ করি ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপজেলার চাষিরা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মরিচ উপজেলার বাইরে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ








এফডিসিতে গিয়ে বিব্রত ওমর সানি
এফডিসিতে গিয়ে বিব্রত ওমর সানি
৩ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:১৮:৫৭




Follow Us