গাজীপুরের (শ্রীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তায় আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর বর্জ্য মিশ্রিত দূষিত পানি সরাসরি মহাসড়কের ওপর ফেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে ২৪ ঘণ্টা ময়লা পানি জমে থাকায় উৎকট দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত চাঁদপুর হোটেল, ধামরাই রেস্টুরেন্ট, নিউ রাজধানী রেস্টুরেন্ট ও বরমী হোটেলসহ বেশ কিছু খাবারের দোকানের মাছ-মাংস ধোয়া পানি, উচ্ছিষ্ট বর্জ্য এমনকি টয়লেটের পানি পাইপের মাধ্যমে সরাসরি মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। ব্যস্ততম এই সড়কের একাংশ সবসময় কর্দমাক্ত ও নোংরা হয়ে থাকে। প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ এই ময়লা মাড়িয়েই যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হোটেলের সামনের এই দূষিত পানি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নোংরা পানিতে মশা ও মাছির উপদ্রব বেড়েছে। সেই মাছিগুলোই আবার হোটেলের খোলা খাবারে বসছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে ফেলছে। একদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে রাস্তার পরিবেশ বিষিয়ে তোলা হচ্ছে।

স্থানীয় পথচারী ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে এই অরাজকতা চললেও শ্রীপুর পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো নজরদারি না থাকায় হোটেল মালিকরা বেপরোয়াভাবে মহাসড়ককেই ডাস্টবিন ও ড্রেন হিসেবে ব্যবহার করছেন।
মাওনা চৌরাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী কয়েকজন যাত্রী জানান, "এখান দিয়ে হাঁটা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। জামাকাপড় নষ্ট হয়, দুর্গন্ধে বমি আসে। মহাসড়কের মতো জায়গায় এমন নোংরা পরিবেশ মেনে নেওয়া যায় না।"


এলাকাবাসীর জোর দাবি, অতি দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে এবং পরিবেশ আইন অমান্যকারী হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এই জনবহুল এলাকাটি বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available