মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জে ঋণ নিতে গিয়ে একটি এনজিও অফিসে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে এক দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
১৫ মার্চ রোববার দুপুরে সদর উপজেলার নবগ্রাম এলাকার সরুপাই বাজারে ব্র্যাক অফিসে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা রিপন হোসেন ও তার স্ত্রী মীম আক্তার নতুন ঋণ নেওয়ার জন্য ওই অফিসে যান। আগের ঋণের বকেয়া পরিশোধের জন্য তারা আগের দিন ২৮ হাজার টাকা জমা দেন। পরদিন নতুন ঋণের বিষয়ে কথা বলতে গেলে শাখা ব্যবস্থাপক বেলাল হোসাইন ঋণ দিতে অপারগতা জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রিপন হোসেন ও তার স্ত্রীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে আশপাশের লোকজন এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ভুক্তভোগী রিপন হোসেন জানান, তার আগের একটি ঋণের কিস্তি বাকি ছিল। সেটি পরিশোধ করার পর নতুন করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অফিসে গেলে ম্যানেজার ঋণ দিতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির পর কয়েকজন কর্মচারী মিলে তাদের মারধর করেন বলে তিনি দাবি করেন।
মীম আক্তার বলেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই অফিস থেকে ঋণ নিয়ে আসছে। আগের ঋণ পরিশোধ করার পর নতুন ঋণের জন্য টাকা জমা দেওয়া হলেও পরে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নিলয় সাহা বলেন, হট্টগোল শুনে গিয়ে দেখেন এক নারী কান্নাকাটি করছেন। পরে জানতে পারেন ব্যাংকের কর্মকর্তার সঙ্গে গ্রাহকদের বিরোধ হয়েছে।
সরুপাই এলাকার বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেন জানান, চিৎকার শুনে নিচে এসে দেখেন উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি চলছে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তবে এ বিষয়ে শাখা ব্যবস্থাপক বেলাল হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মানিকগঞ্জ বানিয়াজুর তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) পুলক কুমার মজুমদার বলেন, বিষয়টি পুলিশ অবগত হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available