• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১২ই চৈত্র ১৪৩২ বিকাল ০৫:২৬:১৬ (26-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস ডুবি

যেভাবে বেঁচে ফিরলেন খোকসার খাইরুল

২৬ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:০২:০২

যেভাবে বেঁচে ফিরলেন খোকসার খাইরুল
“বেঁচে ফেরা খোকসার খাইরুল ইসলাম”

খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির মুহূর্তে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন কুষ্টিয়ার খোকসার যুবক খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬)।

তবে নদী সাঁতরে তীরে ওঠার পর এক তথাকথিত উদ্ধারকারীর হাতে নিজের মুঠোফোনটি খুইয়েছেন তিনি। মোবাইল ফোন হারালেও ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরতে পেরে আল্লাহ্ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল।

Ad
Ad

ঈদের ছুটি শেষে বুধবার (২৫ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসে করে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন খাইরুল। তিনি খোকসা উপজেলার আমবাড়ীয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। ঢাকার একটি টেক্সটাইল মিলে মেশিনম্যান পদে চাকরি করেন।

Ad

মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে ফেরা খাইরুল এশিয়ান টিভিকে জানান, বাসটিতে তার আসন নম্বর ছিল বি-২। দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে খোকসা স্ট্যান্ড থেকে বাসটি ছাড়ার সময় প্রতিটি আসন পূর্ণ ছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে বাসটি ফেরিতে উঠতে গিয়ে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ওই সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নিজের সিটে বসে থাকা খাইরুল বাসের দরজা দিয়ে নদীতে ছিটকে পড়েন।

তিনি বলেন, কীভাবে যে নদীতে ছিটকে পড়লাম বলতে পারি না। শুধু এটুকু মনে আছে মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে সব ওলটপালট হয়ে গেল। সাঁতরে তীরে ওঠার পর এক লোক সাহায্য করার নাম করে আমার ফোনটি নিয়ে আর ফেরত দেয়নি।

খাইরুল ইসলাম জানান, তার পাশের সিটের যাত্রী সাদা টি-শার্ট পরা যুবকটিও খোকসা স্ট্যান্ড থেকে আগেই বাসে উঠে বসেছিলেন। তাদের বাসটি ফেরি ঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। ঠিক তখনই তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগলে তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়ে যান। তার দেখা বাসটিতে থাকা হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী নদী সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে উঠে জীবন বাঁচাতে পেরেছেন।

খাইরুল আরও জানায়, দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকটির সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তিনি জানান, বাসের প্রতিটি সিটে যাত্রী ছিল। প্রত্যেক নারী যাত্রীর সাথে শিশু ছিল। ছিটে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু যাত্রী ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন বলেও জানান তিনি।

সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসার কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, বি-১ ও ২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিল। তাদের একজন জীবিত ফিরেছে। অজ্ঞাত পরিচয়ের আর এক বৃদ্ধ যাত্রীও উঠেছিল।

রাকিব বিশ্বাসের দাবি, চালককে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি চালকের আসনেই ছিলেন। বেঁচে ফেরা ফারুকের সঙ্গে তিনিও কথা বলে তা নিশ্চিত হয়েছেন। চালক আরমানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাস ফেরিতে ওঠার আগে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য নেমেছিল আর হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের বাড়িও রাজবাড়ী জেলায়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইসরাফিল (৩) ও শোমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩) এবং কুষ্টিয়ার শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের (৫৬) মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মডেল কালিয়া
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মডেল কালিয়া
২৬ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৫:১০:৩৫





৪ দিনের সফরে পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
৪ দিনের সফরে পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
২৬ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:২৮:১৯


বুটেক্সে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত
বুটেক্সে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত
২৬ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:২৩:৪৩


যেভাবে বেঁচে ফিরলেন খোকসার খাইরুল
যেভাবে বেঁচে ফিরলেন খোকসার খাইরুল
২৬ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:০২:০২


Follow Us