লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় জমজমাট থাকা লক্ষ্মীপুরের মৃৎশিল্প এখন টিকে থাকার লড়াই করছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাস্টিক, স্টিল ও চিনামাটির পণ্যের দাপটে কমে গেছে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা, ফলে চরম সংকটে পড়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা।
একসময় ৮০-৯০ দশকে লক্ষ্মীপুরের ঘরে ঘরে মাটির তৈরি বাসনপত্র ছিল অপরিহার্য। শিশুদের হাতে দেখা যেত নানা ধরনের মাটির খেলনা। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৭ নম্বর ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ধর্মপুর এলাকার কুমারপাড়ায় সারাবছরই চলত মাটির জিনিস তৈরির কর্মযজ্ঞ। বাড়ির আঙিনাজুড়ে রোদে শুকানো হতো মাটির বাসন ও খেলনা, পরে রঙতুলির আঁচড়ে তৈরি করা হতো নান্দনিক সব পণ্য।


ঈদ ও বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন উৎসবে এসব মাটির জিনিসপত্র বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন কারিগররা। একসময় ওই এলাকায় অর্ধশতাধিক পরিবার এই পেশার সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে সেখানে রয়েছে মাত্র ২৬টি পরিবার। এর মধ্যে কেবল পাঁচটি পরিবার এখনো মৃৎশিল্প ধরে রেখেছে।

মৃৎশিল্পীরা জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না। বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।
তাদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তা না পেলে অচিরেই লক্ষ্মীপুরের মৃৎশিল্প সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে যথাযথ উদ্যোগ ও সহযোগিতা পেলে এখনো এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সংকটের মধ্যেও লোকসান গুনে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। তাদের প্রত্যাশা, সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available