• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ৭ই বৈশাখ ১৪৩৩ বিকাল ০৪:০৮:৪০ (20-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:

প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে ১৫০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত

২০ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩:০৯

প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে ১৫০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধা ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম,এ, ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকারের গাফিলতিতে বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে পরীক্ষার আগেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধান শিক্ষক।

জানা যায়, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম,এ, ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের ২১২ শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে একসাথে এই মাধ্যমিক স্কুল সাটিফিকের্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এডমিট কার্ড তুলতে গিয়ে দেখে কারো মা-বাবার নাম ভুল, কারো পুরুষ শিক্ষার্থীর ছবির জায়গায় অন্য মেয়ের ছবি। আবার ছেলের ছবির জায়গায় মেয়ে শিক্ষার্থীর ছবি। অনেকে বিজ্ঞানে পড়াশুনা করলেও এডমিট কার্ডে মানবিক বিভাগের অনুমতি এসেছে। আবার বেশ কিছু পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ডও আসে নাই।

Ad
Ad

পরীক্ষার্থীরা জানায়, প্রধান শিক্ষক ফরমফিলাপের টাকার হিসাব যেন প্রতিষ্ঠানের অন্যরা না জানে, সেজন্য তিনি বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বা কম্পিউটার অপারেটরের সহযোগিতা না নিয়ে একটি দোকান থেকে কাজ করার কারণে শিক্ষার্থীদের এডমিটে নানান ভুল হয়েছে।

Ad

স্কুল সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামীকাল ২১ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় কঞ্চিপাড়া এম,এ, ইউ একাডেমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৮, মানবিক থেকে ১৪৫ শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কয়েকদিন আগেই ফুলছড়ি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র হাতে তুলে দেয়। কিন্তু কঞ্চিপাড়া এম,এ, ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের পরিক্ষার্থীরা প্রবেশ পত্র (এডমিট) তুলে দেখতে পান ভুলে ভরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির পরীক্ষার্থীরা ছোটাছুটি করছেন প্রবেশ পত্র হাতে নিয়ে। কারও ভুল হয়েছে, মা-বাবার নাম, আবার কারো ছবির সাথে মিল নাই। এমনকি কারো কারো ধর্মের পরিবর্তন হয়েছে। আবার অনেক পরীক্ষার্থীর এডমিটও আসে নাই। পরীক্ষার্থীদের এসব ভুলের কথা ছড়িয়ে পড়লে অবিভাবক ও স্থানীয়রাও আসছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। বিদ্যালয়টির মাঠে অবস্থান করা পরীক্ষারর্থীদের চোখেমুখে অনিশ্চিয়তার ছাপ লক্ষ করা গেছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাহায়ন সরকার বিগত সরকারের সময়ে এক প্রভাবশালী নেতার পরিচয় দিয়ে বহু মানুষের থেকে নানা প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই নেতা দেশান্তরিত হওয়ার পর রাহায়ন ওই স্কুলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। মাঝে মাঝে স্কুলে এসে খাতায় হাজিরা দিয়ে চলে যান। তার এসব অনিয়ম নিয়ে কেউ কথা বলার সাহস পান না। অন্য শিক্ষকদের বঞ্চিত করতে তিনি একাই একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতে গিয়ে ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর জীবনে ভয়াবহতা ডেকে এনেছেন।

পরীক্ষার্থী আল আমিন ও নাজিয়া আযম বন্ধন বলেন, ‘আগামীকাল পরীক্ষা, আমরা এখনো প্রবেশ পত্র পাই নাই। আমাদের নাকি ফরম ফিলাপ হয়নি। আমাদের মতো অনেকেই আছে। হেড স্যারকে বললাম, তিনি বললেন, ধৈর্য ধরো, সবার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এখন পড়াশুনাই করব নাকি প্রবেশ পত্র নিয়ে চিন্তা করব। কোনটাই মাথায় খেলছে না।’

পরীক্ষার্থী পিয়াল সরকার বলেন, ‘নবম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার সময় আমার জন্ম তারিখ ভুল হয়। প্রধান শিক্ষক স্যার সংশোধনের জন্য আমার কাছ থেকে টাকা নেন। এসএসসি পরীক্ষার এডমিট কার্ড তুলে দেখি আমার জন্ম তারিখ সংশোধন হয় নাই। চিন্তায় আছি এখন কী হবে।’

পরীক্ষার্থী হযরত আলী জানায়, ‘আমার এডমিট কার্ডে অন্য এক নারী পরীক্ষার্থীর ছবি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার হলে এবার যে কী হবে আল্লাহ জানে। হেড স্যারকে বললাম, স্যার বলতেছে পরীক্ষার আগে ঠিক করে দিলেই তো হলো।’

বিদ্যালয়টির সবাবেক সভাপতি শামসুজোহা বলেন, ‘আমি গত তিন মাস আগ পর্যন্ত বিদ্যায়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলাম। ওই সময়ে শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের কাজ হয়েছে। এই প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাজের জন্য যখন যে টাকার ভাউচার দিয়েছে, সেখানেই স্বাক্ষর করে দিয়েছি। তিনি প্রত্যক শিক্ষার্থীর ফরমফিলাপের অনলাইন ও কম্পিউটারের কাজ বাবদে দুই থেকে আড়াইশ’ টাকা নিয়েছেন। তার পরও কেনো ভুল হবে। আমার জীবনে এমন প্রধান শিক্ষক দেখি নাই যে, নিজেই কিছু টাকা আত্নসাত করার জন্য শিক্ষার্থীদের জীবনে অনিশ্চয়তা ডেকে নিয়ে আসবে।’ 

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, 'এসব বিষয় দেখা আমার কাজ না। শিক্ষা বোর্ড ও প্রধান শিক্ষক এসব দেখার বিষয়।' কোনগুলো দেখা আপনার কাজ-এমন প্রশ্ন করলে তিনি সংযোগবিচ্ছিন্ন করে দেন।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'এই প্রথম বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম। ওই বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থীই যেন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।'

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ




শিশু হাসপাতালের বেজমেন্টে অগ্নিকাণ্ড
শিশু হাসপাতালের বেজমেন্টে অগ্নিকাণ্ড
২০ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৩:২৭:৪১








Follow Us