আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে তিন জাহাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যে কারণে ওই জাহাজের বেশিরভাগ নাবিককে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটিও) বলেছে, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।


দু’টি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে হামলার শিকার হয়েছে। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরবর্তীতে এই ঘটনার বিষয়ে ইউকেএমটিও বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং এতে পরিবেশগত কোনও বিপর্যয় ঘটেনি। বর্তমানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক ওই জাহাজে অবস্থান করছেন।
এর আগে, দু’টি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র বলেছিল, জাপানের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর ২৫ নটিক্যাল মাইল (৪৬ কিলোমিটার) উত্তর-পশ্চিমে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজটির নাবিকরা সবাই নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটি নিরাপদ নোঙরস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ের প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে তৃতীয় আরেকটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজেও অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে।
মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড বলেছে, মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী জাহাজ স্টার গুইনেথে আঘাতের ফলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং জাহাজটির নাবিকরা নিরাপদ আছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সবশেষ এই ঘটনাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটল।
সূত্র : রয়টার্স।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available