আন্তজার্তিক ডেস্ক: বিজেপি নতুন সরকার গঠন করবে। কিন্তু কবে সেই সরকারের শপথ, তা মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি। বুধবার রাতে কলকাতায় আসার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তিনি পরিষদীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করে নেতার নাম ঘোষণা করতে পারেন।
সোমবার দুপুরেই ভোটের ফল মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তখনই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখন লোকভবনে যাবেন? কখন মুখ্যমন্ত্রিত্বে ইস্তফা দেবেন? কারণ, সেটাই রীতি। মমতার আগের ক্ষমতাচ্যুত মুখ্যমন্ত্রীরা তেমনই করে এসেছেন। বস্তুত, মমতা যখন সোমবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকে বেরোলেন, অনেকেই তখন ভেবেছিলেন, এর পরে তিনি লোকসভবনে গিয়ে রাজ্যপালের হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেবেন। কিন্তু মমতার কনভয় চলে যায় কালীঘাটে তাঁর বাড়ির পথে। কৌতূহল তখনও ছিল।


কিন্তু ৫ মে মঙ্গলবার বিকালে মমতা সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না! কারণ, তিনি হারেননি। তাই লোকভবনে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। মমতা বলেছেন, ‘‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’’

মমতা যদি আনুষ্ঠানিক ভাবে ইস্তফা না-দেন, তা হলে কী হবে? কী বলছে সংবিধানের নিয়মাবলি?
এমন পরিস্থিতির কথা নির্দিষ্ট উল্লেখ করে সংবিধানে কিছু বলা নেই। কারণ, কোনও মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাস্ত হয়েও যে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেবেন না, এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে বলে কেউ মনে করেননি। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞেরা বেশ কিছু ধারণার কথা বলছেন। যা অতীতে কোনও না কোনও রাজ্যে ঘটেছে। কিন্তু ভোটে হেরে যাওয়ার পরেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা না-দেওয়ার নজির দেশে নেই। ফলে মমতা শেষ পর্যন্ত ইস্তফা না-দিলে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন নজির তৈরি হবে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭মে, বৃহস্পতিবার। ইস্তফা না-দিলে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই দিন পর্যন্ত মমতাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। কিন্তু ৭ তারিখ পেরোলেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থাকবে না। ইস্তফা না-দিলেও নামের আগে জুড়ে যাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটে হারলে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়াটা ‘নিয়ম’ নয়। এটি সাধারণ ভাবে রেওয়াজ, রীতি বা সাংবিধানিক শিষ্টাচার। যেমন ১৫ বছর আগে ২০১১ সালের ১৩ মে দুপুর ১টা নাগাদ ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পরেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজভবনে গিয়ে তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র তুলে দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি রাজভবন থেকে সরকারি গাড়ি ছেড়ে দিয়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন দলের গাড়ি চেপে।
সূত্র: আনন্দবাজার
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available