অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত যানবাহনের জ্বালানি খরচ সামলানো অনেকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু দামী জ্বালানি ব্যবহার করলেই যে খরচ কমবে, তা কিন্তু নয়। বরং গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর সঠিক অভ্যাস এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে তেলের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব। আপনার পকেটের সাশ্রয় এবং ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব বাড়াতে নিচের ৮টি কৌশল অনুসরণ করতে পারেন:
১. টায়ারের বায়ুচাপের দিকে নজর দিন


চাকায় হাওয়া কম থাকলে রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণ বেড়ে যায়, যা ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। ফলে জ্বালানি খরচও বেড়ে যায়। নিয়মিত টায়ার প্রেশার চেক করুন; সঠিক বায়ুচাপ থাকলে চাকা অনায়াসেই ঘুরতে পারে এবং মাইলেজ বৃদ্ধি পায়।

২. যানজটে ইঞ্জিন বন্ধ রাখার অভ্যাস
শহরের যানজট বা সিগন্যালে যদি ১ মিনিটের বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। অলসভাবে ইঞ্জিন চালু থাকলে অপ্রয়োজনীয় প্রচুর জ্বালানি অপচয় হয়।
৩. পরিমিত গতি বা ‘ইকোনমি স্পিড’
হুটহাট গতি বাড়ানো বা ঘনঘন হার্ড ব্রেক করার প্রবণতা তেলের খরচ বাড়িয়ে দেয়। সাধারণত ঘণ্টায় ৪০-৬০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি বা বাইক চালানো সবচেয়ে সাশ্রয়ী। এই গতিসীমায় ইঞ্জিন সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেয়।
৪. গিয়ার পরিবর্তনে সতর্কতা
গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক গিয়ার ব্যবহার করা জরুরি। কম গতিতে হাই-গিয়ার কিংবা উচ্চ গতিতে লো-গিয়ারে গাড়ি চালালে ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি ধকল যায়, যা সরাসরি জ্বালানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।
৫. যানবাহনের ওজন কমান
গাড়ির ডিকি বা বাইকের পেছনের অংশে অপ্রয়োজনীয় ভারী বস্তু বহন করা থেকে বিরত থাকুন। যানের ওজন যত বেশি হবে, সেটিকে টেনে নিতে ইঞ্জিনকে তত বেশি শক্তি খরচ করতে হবে, যার ফলে তেল বেশি পুড়বে।
৬. এসির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার
গাড়ির এসি সরাসরি ইঞ্জিন থেকে শক্তি গ্রহণ করে। তীব্র গরম না থাকলে এসি বন্ধ রেখে জানালা খুলে গাড়ি চালাতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, হাইওয়েতে উচ্চ গতিতে গাড়ি চালানোর সময় জানালা খোলা রাখলে বাতাসের বাধায় (Air Drag) উল্টো জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে এসি চালানোই শ্রেয়।
৭. নিয়মিত সার্ভিসিং ও লুব্রিকেন্ট পরিবর্তন
একটি সচল ইঞ্জিনের জন্য সময়মতো সার্ভিসিং অপরিহার্য। নির্দিষ্ট সময় পরপর ইঞ্জিন অয়েল বা লুব্রিকেন্ট পরিবর্তন করুন। নোংরা এয়ার ফিল্টার ও পুরনো স্পার্ক প্লাগ ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তাই এগুলো পরিষ্কার বা পরিবর্তন করলে মাইলেজ ঠিক থাকে।
৮. চেইনের যত্ন (মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে)
বাইকের চেইন যদি ঢিলে হয়ে যায় বা শুকিয়ে খসখসে হয়ে থাকে, তবে ঘর্ষণজনিত কারণে জ্বালানি অপচয় হয়। চেইন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা এবং সঠিক টানটান অবস্থায় রাখা মাইলেজ বাড়ানোর একটি সহজ উপায়।
সামান্য কিছু সচেতনতা এবং এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার শখের যানবাহনটি যেমন সচল থাকবে, তেমনি জ্বালানি বাবদ আপনার মাসিক খরচও অনেকটা কমে আসবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available