নিজস্ব প্রতিবেক: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ বা এর দুয়েক দিন আগে বসছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি সংবাদমাধ্যমকে একথা জানান। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যেই সংসদ বসা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

এবারের অধিবেশনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হতে যাচ্ছে স্পিকার নির্বাচন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির পক্ষ থেকে স্পিকার পদের জন্য সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটে বা ভোটের মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।


সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। গণঅভ্যুত্থানের পর দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।
সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্য অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। ১৯৭৩ সালের নজির অনুসরণ করে সরকারি ও বিরোধী দলের সমঝোতায় একজন অভিজ্ঞ সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এবার রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার মর্যাদা পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং চিফ হুইপ হিসেবে মো. নাহিদ ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিএনপি এখনো স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপ পদের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা ছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের অধ্যাদেশগুলো এবং শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। তাদের মিত্ররা পেয়েছে ৩টি আসন। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন এবং তাদের জোটসঙ্গীরাসহ মোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে বিজয় লাভ করেছেন।
আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available