নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে সড়কে বেপরোয়া যানবাহনের গতি ও অসচেতনতার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ২৫৫ জন।
২২ মার্চ রোববার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদের মধ্যে ১০৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঈদের দিনেই গুরুতর আহত শতাধিক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এসব রোগীর চিকিৎসায় বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের আনন্দ অনেকের জন্য পরিণত হয়েছে দুর্ভোগে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজু নামের এক যুবক বেপরোয়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা ভেঙে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একইভাবে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়ে অটোরিকশার ধাক্কায় আহত হয়েছেন শাকিল মিয়া, যিনি বর্তমানে সন্তানের সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নিটোরের সহকারী অধ্যাপক ডা. জীবানন্দ হালদার বলেন, ঈদ উপলক্ষে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ রোস্টার চালু রয়েছে, যেখানে চিকিৎসকেরা ইউনিটভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন।
ওয়ার্ড মাস্টার নুর মোহাম্মদ জানান, দুপুরের পর থেকেই রোগীর চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার রোগী বেশি এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ৩০০ থেকে ৩৫০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে এবং এতে প্রাণহানি ঘটে ৩০০ থেকে ৪০০ জনের।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। অতিরিক্ত গতিতে চলাচলকারী যানবাহনকে ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকেই সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর মনিটরিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available