ডেস্ক রিপোর্ট: ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ (বুধবার) পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম ও মানবতা-প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে’। দিবসটির মূল লক্ষ্য হল অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা।
অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্নায়ুবৈচিত্র্যের অগ্রগতির মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।


এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় শারীরিক, শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও শিক্ষাগত, সেবাগত এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এটি একটি সমন্বিত পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪টি ‘অটিজম ও ইনডিভিজুয়াল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার কার্যকর রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে ২ লাখ ৬০ হাজার ১৯৬ জন বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেছে এবং মোট ১২ লাখ ৩৯ হাজর ৮২০টি সেবা প্রদানের রেকর্ড রয়েছে।
সরকারি প্রকল্পগুলোর আওতায় প্রতিবন্ধী শিশুরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছে। এর মধ্যে রয়েছে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, দৈনন্দিন জীবনযাপন দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শুধু শিক্ষিত নয়, বরং সক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠুক। এতে তারা দেশের অর্থনীতি ও সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান।
তিনি আরও জানান, ডিজেবল স্পোর্টস এবং প্যারাঅলিম্পিক কার্যক্রমকে আগের চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় এবং তাদের আত্মবিশ্বাস উন্নত করে। পাশাপাশি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সামাজিক সংগঠন নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
এসব উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের একসঙ্গে মেলামেশা ও নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে।
অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জীবনমান উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করে আসছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available