• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১২ই চৈত্র ১৪৩২ বিকাল ০৪:০০:৪৫ (26-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:

লাঙ্গলবন্দ মহাঅষ্টমী স্নানোৎসব : ঐতিহ্য, ভক্তি ও ইতিহাসের মিলনমেলা

২৬ মার্চ ২০২৬ সকাল ০৯:১৭:৫৭

লাঙ্গলবন্দ মহাঅষ্টমী স্নানোৎসব : ঐতিহ্য, ভক্তি ও ইতিহাসের মিলনমেলা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ঐতিহাসিক লাঙ্গলবন্দ-এ ব্রহ্মপুত্র নদ তীরে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন মহাঅষ্টমী স্নান। পাপমুক্তির বিশ্বাসে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী এই উৎসবে অংশ নিতে সমবেত হয়েছেন।

২৫ মার্চ বুধবার বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে তিথি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরা ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য, আমার পাপ হরণ করো’ মন্ত্র উচ্চারণ করে লাঙ্গলবন্দের ২৪টি ঘাটে পবিত্র স্নান শুরু করেন। এই স্নান চলবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

Ad
Ad

বুধবার সকাল থেকেই লাঙ্গলবন্দের বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রমে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বারোয়ারি মেলা। মেলায় ধর্মীয় উপকরণ, খেলনা ও নানান সামগ্রীর পাশাপাশি শিবের বেশে সজ্জিত শিশুদের ঘিরে পুণ্যার্থীদের বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকে তাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করছেন।

Ad

লাঙ্গলবন্দের এই স্নানোৎসবের পেছনে রয়েছে গভীর পৌরাণিক ইতিহাস। পুরাণ মতে, ত্রেতা যুগে পরশুরাম মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে কঠোর তপস্যা করেন। পরে তিনি হিমালয়ের মানস সরোবর-এর পবিত্র জলে স্নান করে পাপমুক্ত হন।

জনশ্রুতি আছে, সাধারণ মানুষের কল্যাণে সেই পবিত্র জলধারা তিনি লাঙ্গল দিয়ে টেনে বর্তমান লাঙ্গলবন্দ এলাকায় নিয়ে আসেন। তাঁর ব্যবহৃত লাঙ্গল যেখানে এসে থামে, সেখান থেকেই ‘লাঙ্গলবন্দ’ নামের উৎপত্তি। সেই থেকে শত শত বছর ধরে এখানে মহাঅষ্টমী স্নানের এই ঐতিহ্য পালিত হয়ে আসছে।

স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, এ বছর চারটি নতুন ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড টহলে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রায় ১১০০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়াও ৬০০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, প্রাচীন ঐতিহ্য ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে লাঙ্গলবন্দের মহাঅষ্টমী স্নানোৎসব এবারও পরিণত হয়েছে এক মহামিলনমেলায়।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ












Follow Us