রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এ প্রচণ্ড শীতের মধ্যে চরাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উষ্ণতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

৪ ডিসেম্বর রোববার সকাল ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের খেদাইমারী এলাকায় অবস্থিত বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদন প্রাঙ্গণে এই শীত বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। খেদাইমারী বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদন প্রতিষ্ঠান কার্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব শীত বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।


উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন, শিশু সদনের শিক্ষকবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, “শীত মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে চরাঞ্চলের শিশুদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হয়। শীতজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে এবং তাদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিয়মিতভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে সরকার সবসময় সচেষ্ট। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান শীত মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ শীতপ্রধান বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। অনেক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার শীতবস্ত্রের অভাবে কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই শীতের এই সময় শিশুদের জন্য উষ্ণতার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।
কম্বল পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানায়, তারা খুবই আনন্দিত। এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা অনেক খুশি। কম্বল পেয়ে শীতে আমাদের কষ্ট কম হবে।” আরেক শিক্ষার্থী জানায়, “এবারই প্রথম আমরা সরকারি ভাবে কম্বল সহায়তা পেলাম। আগে কখনো এভাবে পাইনি।”
শিশুরা আরও বলেন, “প্রতি বছর যদি সরকারি ভাবে আমাদের কম্বল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়, তাহলে শীতের সময় আমাদের পড়াশোনা করতে সুবিধা হবে। আমরা আল্লাহর কাছে এটাই আশা করি।”
এ ধরনের উদ্যোগ শীতার্ত শিশুদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available