আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর শত্রু জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান এবং অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় বা অনুমতির শর্ত আরোপ করেছে।
এই প্রণালীতে ৬৫ দিন ধরে চলা উত্তেজনার পর, তেল ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজের প্রায় ২০,০০০ নাবিক এই এলাকায় আটকা পড়েছেন। তারা পানি ও খাদ্যের অভাব, মার্কিন নৌ অবরোধ, প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ইরানি টহল এবং উভয়ের মধ্যে গোলাগুলির মতো পরিস্থিতি সহ্য করার পাশাপাশি, তারা এই বিষয়ে কোনো সমাধানের আশায় হতাশ ও অনিশ্চিতভাবে ইরান-মার্কিন যুদ্ধের ঘটনাবলির খবরের দিকে তাকিয়ে আছেন।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই বিষয়ে এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘একটি চীনা তেল ট্যাংকারের নেভিগেটর শামিম সাবের এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজতে ইরানি নৌবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদেরকে জানায়, ‘এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি একটি রেড জোন’।

শামিম সাবের আরও বলেন, তার এবং তার নাবিক দলের খাবার ফুরিয়ে আসছে, কারণ মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের গোলাবর্ষণের মধ্য দিয়ে দুটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং জরুরি সামুদ্রিক যোগাযোগ চ্যানেলটি সমুদ্রে আটকা পড়া নাবিকদের নানা অনুরোধ ও আকুতিতে ভরে গেছে।
৮০০-র বেশি জাহাজ প্রণালীটি ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং শামিম সাবের আছেন জাহাজের সারির একেবারে সামনে, এত কাছে যে তিনি স্পিডবোটগুলোতে টহলরত ইরানি সৈন্যদের মুখ দেখতে পাচ্ছেন। নিচে, তার সহকর্মীরা উদ্বিগ্নভাবে বোর্ড গেম খেলে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ খবর পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। মাথার উপর ড্রোন ভনভন করছে এবং জাহাজগুলোর চারপাশে পচা আবর্জনা ভাসছে, যা রাখার জন্য ডেকে আর কোনো জায়গা নেই।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনের ফলে পারস্য উপসাগরের স্বল্প মজুরির কর্মীদের জন্য ওই এলাকা একটি ভাসমান কারাগারে পরিণত হয়েছে। সিরিয়া, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর নাবিকেরা ক্রমহ্রাসমান রসদ নিয়ে উভয়পক্ষের গোলাগুলির মাঝে আটকা পড়েছেন। সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১০ জন নাবিক মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, দেউলিয়া মালিকদের দ্বারা পরিত্যক্ত নাবিকদের সংখ্যা আগামী সপ্তাহগুলোতে বাড়বে, যা ইতোমধ্যেই ওষুধের ঘাটতি ও অসুস্থতায় ভুগতে থাকা জাহাজগুলোর চিকিৎসা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলবে।
একজন ভারতীয় নাবিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন যে, তার জাহাজে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি ফুরিয়ে গেছে এবং দুজন নাবিক গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। একজন রুশ নাবিক বলেছেন, তার কাছে শুধু চাল ও পানি আছে এবং রক্তচাপের ওষুধও শেষ হয়ে গেছে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available