আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে চলমান সামরিক তৎপরতার ব্যয় মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২৪ জুন বুধবার হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব কংগ্রেসে পাঠায়।
প্রস্তাবিত অর্থের বড় অংশই প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৭ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার সামরিক অভিযান পরিচালনা, সেনাদের সহায়তা, অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে নতুন গোলাবারুদ সংগ্রহ, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করতে ২১ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে।
তবে বাজেট প্রস্তাব প্রকাশের পর কংগ্রেসে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান দলেরও কয়েকজন সদস্য যুদ্ধ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আইনপ্রণেতাদের একাংশের অভিযোগ, যুদ্ধ পরিস্থিতি, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত যুদ্ধ ব্যয়ের অনুমোদন পাওয়া সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে জনমতের একটি অংশও যুদ্ধ ব্যয়ের বিরোধিতা করছে।
অতিরিক্ত বাজেট প্রস্তাবে সামরিক খাতের বাইরে আরও কয়েকটি খাতে অর্থ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আফ্রিকায় ইবোলা মোকাবিলায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, কৃষি সহায়তায় ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য পৃথক বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।
তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া পুরো প্রস্তাব অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে যুদ্ধ ব্যয় ও সামগ্রিক বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available