অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুনর্গঠিত পে-স্কেল সংক্রান্ত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ ২১ মে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকেই চূড়ান্ত হতে পারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি বৈঠকে বসছে। বৈঠকে সুপারিশ চূড়ান্ত করে দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বৈঠক থেকেই নবম পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতামত পর্যালোচনা করেছে কমিটি।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। আগামী জুলাই থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে।
এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন কাঠামোর সঙ্গে বাড়তি ভাতা, আনুষঙ্গিক সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে।
আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবম পে-স্কেলের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পে-কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, একবারে পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে।
নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশন বাড়ানোর সুপারিশও করেছে।
সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিউজ ২৪
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available