আমরা লেবাসধারী মুসলমান না, ইসলামের কোনো ভুল ব্যাখ্যায় প্রবিত হবো না: এস এম জাহাঙ্গীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: “আমরা লেবাসধারী মুসলমান নই, আমরা কোরআন-হাদিস অনুসরণকারী পালনকারী মুসলমান। ইসলামের কোনো ভুল ব্যাখ্যায় আমরা প্রভাবিত হবো না”-এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।২৫ জানুয়ারি রোববার সকাল ১১টায় দক্ষিণখান ৪৯ নম্বর গাওয়াইর বাজার এলাকায় গণসংযোগের চতুর্থ দিনের কর্মসূচির শুরুতে অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, “আমরা মুসলমানের ঘরের সন্তান হিসেবে কোরআন ও হাদিসকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে ইসলাম পালন করি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো পথে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। বিএনপির নেতাকর্মীরাই প্রকৃত অর্থে ইসলামকে হৃদয়ে ধারণ করে।”বিএনপি সরকার আমলে আলেম-ওলামাদের যথাযথ সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “অন্য কোনো সরকার আলেমদের এত সম্মান দেয়নি। কিন্তু গত সরকার আলেমদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, জেলে পাঠিয়েছে। মসজিদ-মাদ্রাসায় দেখা হওয়ার কথা ছিল, দেখা হয়েছে কারাগারে-এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”তিনি আরও বলেন, “আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে চাই। বিএনপি সবসময় আলেম-ওলামাদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেবে।”এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশন যেভাবে কর নেয়, সেভাবে সেবা দেয় না। ক্ষমতায় গেলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে।”দক্ষিণখানের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “গ্যাস না দিয়েই বিল নেওয়া হচ্ছে। তিতাসের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্যাস লাইনে প্রবাহ বাড়ানো ও সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”গণসংযোগকালে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫৬ হাজার ভোটার রয়েছে। এই ওয়ার্ডের ভোটেই বিজয় নির্ধারিত হতে পারে। প্রতিটি মানুষের কাছে তারেক রহমানের দাওয়াত ও ভোটের আহ্বান পৌঁছে দিতে নেতাকর্মীদের অনুরোধ করছি।”তিনি উল্লেখ করেন, “এই ওয়ার্ডে হাজী ক্যাম্প রয়েছে, যা দেশের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারাদেশ থেকে প্রায় দেড় লাখ মানুষ এখান থেকে হজে যান। হাজীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, পাশাপাশি এলাকার সার্বিক নিরাপত্তাও জোরদার করা হবে।”ভোটের দিন প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “ফজরের নামাজের পরপরই সবাই যেন ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যায়। কোনো ষড়যন্ত্রকারী যাতে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে বিষয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।”