কঙ্গোতে ইবোলায় ৩০ জনের মৃত্যু, ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির একটি বাস্তুচ্যুত বেসামরিক ক্যাম্পে গত মে মাস থেকে এ পর্যন্ত এসব মৃত্যু হয়েছে। এতে ভাইরাসটির ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।১৯ জুন শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের বুনিয়া শহরের কিগোঞ্জে ক্যাম্পে হঠাৎ মৃত্যুর এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্যাম্প কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের মৃত্যুহার সেখানে নজিরবিহীন। মৃতদের উপসর্গ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তারাও ইবোলায় আক্রান্ত ছিলেন।ক্যাম্পের মুখপাত্র ডিজায়ার গ্রোডিয়া বাপি বলেন, আগে কখনো এত অল্প সময়ে এভাবে এত মানুষের মৃত্যু দেখা যায়নি।রয়টার্সকে ক্যাম্পের মুখপাত্র, এক মৃত ব্যক্তির বাবা এবং তিনটি ত্রাণ সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সবারই মাথাব্যথা, জ্বর ও বমির মতো উপসর্গ ছিল—যা ইবোলা সংক্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।তবে এখনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ ও সহায়তাকারী সংস্থা ক্যারিতাস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি ও অসুস্থদের স্বজনদের অনেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে রাজি হননি।বর্তমানে কিগোঞ্জে ক্যাম্পে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করছেন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেখানে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ৫০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্যানিটেশন সংকট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট ডিজি জো এনদ্রুতসি ইতিয়েন বলেন, শুধু চলতি সপ্তাহেই ১০ জন মারা গেছেন। অথচ সাধারণ সময়ে এই ক্যাম্পে মাসে সর্বোচ্চ ১ থেকে ৩ জনের মৃত্যু হতো বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পের মুখপাত্র।ক্যাথলিক সহায়তা সংস্থা ক্যারিতাসের পরিচালক জাস্টিন জানামুজি বলেন, তাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা মৃতদের স্বজনদের নমুনা পরীক্ষা করাতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তারা তাতে সম্মত হননি।গ্রোডিয়া জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা চলছে।ত্রাণকর্মীরা বলছেন, ইবোলার মতো ভাইরাস মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই রোগ শরীরের তরল ও বর্জ্যের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তবে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন খাতে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে স্যানিটেশন খাতে বরাদ্দ ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। বর্তমানে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। চলতি বছরের জন্য ৮ কোটি ডলার চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে তার মাত্র ২১ শতাংশ।সূত্র: রয়টার্স