শ্রীপুর স্টেশনে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি ও টিকিট বিক্রি শুরু
গাজীপুরের (শ্রীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরবাসীর দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। স্থানীয় জনগণের নিরলস আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অবশেষে শ্রীপুর রেল স্টেশনে আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রাবিরতি এবং টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।১৮ জানুয়ারি রোববার সকালে আনন্দ-উল্লাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান সড়কে একটি বিশাল আনন্দ র্যালি বের করা হয়। স্টেশন এলাকায় সকাল থেকেই ব্যান্ডপার্টির বাদ্য আর সাধারণ মানুষের উল্লাসে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই আয়োজনে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।ব্রহ্মপুত্র ট্রেন যাত্রাবিরতি বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক তপন বণিক জানান, প্রায় তিন বছর আগে দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় জনতা রেলপথ অবরোধ করে এই দাবি জানিয়েছিলেন। শ্রীপুর ট্যুরিজম বাইকার্স যুব উন্নয়ন সংঘসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। অবশেষে রেল কর্তৃপক্ষ জনদাবি মেনে নেওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।বর্তমানে সড়কপথে যানজটের কারণে শ্রীপুর থেকে ঢাকা পৌঁছাতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে মাত্র ১ ঘণ্টায় রাজধানী পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে সময় বাঁচার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ লাঘব হবে বলে জানান আন্দোলনের নেতারা।শ্রীপুর রেল স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমানের তথ্যমতে, শ্রীপুর থেকে ঢাকা সকাল ১০:৪০ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। কমলাপুর স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টায় শ্রীপুর পৌঁছাবে। শ্রীপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত আসন ভাড়া ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রথম দিনে নির্ধারিত ১০টি আসনের বিপরীতে স্ট্যান্ডিংসহ মোট ৭১টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। তবে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন যে, বিপুল জনসংখ্যার এই শিল্পাঞ্চলে মাত্র ১০টি আসন অত্যন্ত অপ্রতুল। তারা দ্রুত আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।শ্রীপুর স্টেশনে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের এই যাত্রাবিরতি স্থানীয় অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।