• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ১৯শে বৈশাখ ১৪৩৩ বিকাল ০৩:১৬:৫৩ (02-May-2026)
  • - ৩৩° সে:
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পর্বতশৃঙ্গ মাকালু জয় করলেন বাবর

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পর্বতশৃঙ্গ মাকালু জয় করলেন বাবর

অনলাইন ডেস্ক: আট হাজার মিটার (২৬,২৪৬ ফুট) বা ততোধিক উচ্চতার পর্বতে লাল-সবুজ নিশান ওড়ালেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী ডা. বাবর আলী। আজ বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় ৪৫ মিনিটে তিনি নিজের পঞ্চম আটহাজারি পর্বত হিসেবে স্পর্শ করেছেন পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট মাকালু শিখর। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমালয়ে অবস্থিত ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার (২৭ হাজার ৮৩৮ ফুট) উচ্চতার এই পর্বতে এটিই প্রথম বাংলাদেশিদের সফলতা।শিখরে বাবরের সঙ্গে ছিলেন আং কামি শেরপা।এই অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন ভিজুয়াল নিটওয়ারস লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন এবং রহমান্স গ্রোসারিজ। ‘এক্সপিডিশন মাকালু : দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এই অভিযানের আয়োজক পর্বতারোহণ ক্লাব 'ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স'। ক্লাবের সভাপতি ফরহান জামান নেপালের আউটফিটার ‘মাকালু অ্যাডভেঞ্চার’ এর স্বত্বাধিকারী মোহন লামসাল কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।জানা যায়, ‘গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান’ বা ‘মহা-কালো’ খ্যাত এই চূড়া আরোহণের উদ্দেশে বাবর ৭ এপ্রিল দেশ ছাড়েন। আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি শেষে তিনি ৯ এপ্রিল বিমানে উড়ে যান টুমলিংটার এবং সেখান থেকে গাড়িতে সেদুয়া গ্রামে। এরপর পায়ে চলা শুরু করে ১৮ এপ্রিল পৌঁছান পর্বতের উচ্চতর বেস ক্যাম্পে। এরপর উচ্চতার সাথে শরীরকে মানিয়ে নিতে ২১ এপ্রিল তিনি ক্যাম্প-১ ও পরদিন ক্যাম্প-২তে ঘুমিয়ে ৭ হাজার মিটার উচ্চতা ছুঁয়ে বেসক্যাম্পে নেমে আসেন। দ্বিতীয় দফায় ২৭ এপ্রিল তিনি পর্বতে চড়ে ক্যাম্প-২ এ একদিন কাটিয়ে পরদিন নেমে আসেন বেসক্যাম্পে।আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বাবর আবার পর্বতে চড়তে শুরু করেন ৩০ এপ্রিল। ওই দিন তিনি সরাসরি উঠে যান ৬ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২ এ এবং পরদিন উঠেন ৭ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩ এ। বিকালটা সেখানেই অপেক্ষা করে মাঝরাতে তিনি বেরিয়ে পড়েন শিখরের উদ্দেশে। একটানা ১১শ মিটারের অধিক ভয়ানক চড়াই অতিক্রম করে তিনি ভোরে পৌঁছে যান শিখরে।তিনি আজ ক্যাম্প-২ ও  আগামীকাল ৩ মে বেসক্যাম্পে নেমে আসবেন বলে প্রত্যাশা করেছেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান।পর্বতারোহণে বাবরের পথচলা শুরু ২০১৪ সাল থেকে। ট্রেকিং-এর জগতে তার হাতেখড়ি হয় ২০১০ সালে; পার্বত্য চট্টগ্রামের নানান পাহাড়ে পথচলার মধ্য দিয়ে। চট্টগ্রামের পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তিনি। এই ক্লাবের হয়েই গত এক যুগ হিমালয়ের নানান শিখরে অভিযান করে আসছেন তিনি। ভারতের উত্তরকাশীর নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন ২০১৭ সালে।২০২২ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হিমালয়ের অন্যতম দুর্গম ও টেকনিক্যাল চূড়া আমা দাবলাম (২২ হাজার ৩৪৯ ফুট) আরোহণ করেন বাবর। ২০২৪ সালে, একই অভিযানে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (২৯ হাজার ০৩৫ ফুট) ও চতুর্থ সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট লোৎসে (২৭ হাজার ৯৪০ ফুট) আরোহণ করেন। একই অভিযানে দুটি আট হাজার মিটার পর্বত আরোহণের কৃতিত্ব নেই আর কোনো বাংলাদেশি পর্বতারোহীর।২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি আরোহণ করেন বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ পর্বত অন্নপূর্ণা-১ (২৬ হাজার ৫৪৫ ফুট)। একই বছরের সেপ্টেম্বরে, তিনি কৃত্রিম অক্সিজেনের সাহায্য ছাড়াই আরোহণ করেন বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম পর্বত, মাউন্ট মানাসলু (২৬ হাজার ৭৮১ ফুট)। এটি প্রথম কোনো বাংলাদেশির কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই কোন আট হাজার মিটার উচ্চতার শিখর আরোহ। মাউন্ট মাকালু চৌদ্দটি আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বত শিখর স্পর্শের স্বপ্নের পথে বাবরের পঞ্চম সাফল্য।প্রসঙ্গত, আট হাজার মিটার (২৬ হাজার ২৪৬ ফুট) বা ততোধিক উচ্চতার পর্বত পৃথিবীতে আছে চৌদ্দটি। আজ পর্যন্ত এই ১৪টি পর্বত চূড়ার মধ্যে চারটি পর্বতের চূড়া ছুঁয়েছেন পর্বতারোহী বাবর আলী, যে কৃতিত্ব নেই আর কোনো বাংলাদেশির।