শ্রীপুরে মাটি ও বালু লুটের মহোৎসব: ৫০ ফুট গভীর গর্তে বিলীন ৩০ বিঘা জমি
গাজীপুরের (শ্রীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের বাদশা নগর এলাকায় গত দের বছর ধরে চলছে অবৈধভাবে মাটি ও বালু লুটের মহোৎসব। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় কয়েক কোটি টাকার প্রাকৃতিক সম্পদ লোপাট হলেও প্রশাসন কার্যত নির্বিকার। মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে বেরিয়ে আসা মূল্যবান ‘লাল বালু’ বিক্রির নেশায় এলাকাটিকে এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত করা হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, তেলিহাটি ইউনিয়নের বাদশা নগর এলাকায় গত দের বছরে প্রায় ৩০ বিঘা জমির মাটি ও বালু সাবাড় করা হয়েছে।কুখ্যাত মাটি ব্যবসায়ী শহীদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চক্র প্রতিদিন রাতে শত শত ট্রাকে করে এই বালু পাচার করছে। মূল্যবান এই লাল বালু প্রতি ফুট ১১০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশাল এই কর্মযজ্ঞের ফলে ফসলি জমিতে এখন প্রায় ৫০ ফুট গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে, যা আশপাশের কৃষি জমি ও বসতবাড়ির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে নামমাত্র জরিমানা করলেও তার কোনো স্থায়ী প্রভাব পড়ছে না। অভিযানের পরদিনই দ্বিগুণ উৎসাহে শুরু হয় খনন কাজ। রাজনৈতিক নেতা ও অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এই লুটপাট চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা বা দায়সারা ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।অতিরিক্ত ওজনের বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে ওই অঞ্চলের আঞ্চলিক সড়কগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাগুলো। বর্ষা মৌসুমে এই গর্তগুলো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।মাটি ব্যবসায়ী শহীদের প্রভাব এতই বেশি যে, তার ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ টু শব্দ করার সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি-ধমকি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ফলে চোখের সামনে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট হতে দেখেও সাধারণ মানুষ এখন নীরব।এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই বালু লুট বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় এবং সরকারি সম্পদ বাঁচাতে জেলা প্রশাসক ও উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।