• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বিকাল ০৩:৫১:৩৩ (20-May-2026)
  • - ৩৩° সে:
টাকার লোভে নিজ সন্তান বিক্রি, বাবাসহ পাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

টাকার লোভে নিজ সন্তান বিক্রি, বাবাসহ পাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অপহরণের শিকার হওয়া দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত মানব পাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।১৯ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয় গণমাধ্যমকে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানান নারায়ণগঞ্জ পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।গ্রেফতারকৃতরা হলেন, এমদাদুল হক রাব্বানী (২৩), বাচ্চাদের পিতা মেজবাহ উদ্দিন(৪০) ও নুর-ই-নাসরিন(২৯)।পিবিআই জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে গত ২১ এপ্রিল দুই শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী মা অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।অভিযানে গত ১৮ মে গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তি এলাকার টিএনটি গেট এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানী (২৩)কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিন (২৯)কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অপহৃত ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়।এর আগে, গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুদ্বয়ের পিতা মেজবাহ উদ্দিনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আরিয়ান (৫) ও আব্দুর রহমান জুবায়েত (২৮ দিন) নামে দুই সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মেজবাহ উদ্দিন বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং সংসারে কলহ সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি স্ত্রীকে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন এবং টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় মেজবাহ উদ্দিন তার পূর্বপরিচিত এমদাদুল হক রাব্বানীর সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে দুই সন্তানকে বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগী মা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, শিশু দুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।পিবিআই’র প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেফতারকৃত এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ করে পাচার করতেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক শিশুপাচারের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।তদন্তে আরও জানা গেছে, মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি একাধিক বিয়ে করে নিজের সন্তানদের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।নারায়ণগঞ্জ পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ  বলেন, ‘রাব্বানীর বিরুদ্ধে আমরা আরও শিশু পাচারের অভিযোগ পেয়েছি। অন্যদিকে, শিশুটির পিতা মেজবাহ উদ্দিন এ পর্যন্ত ৪-৫টি বিয়ে করেছে এবং নিজের সন্তানদেরই পাচারের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’