• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ৩০শে চৈত্র ১৪৩২ রাত ০৮:১২:১২ (13-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী বিভাগের নওগাঁর মান্দা উপজেলার মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় পার হলেও নির্মাণের অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কোটি টাকা লোপাট। স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি অবহেলায় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই চলছে।মান্দা উপজেলার বিজয়পুর নির্মাণাধীন মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) বাস্তবায়নে অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী মহল। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন বালুর পরিবর্তে লাল মাটি দিয়ে চলছে মাঠ ভরাটের কাজ। খেরার মাঠে বালুর পরিবর্তে লাল মাটি ব্যবহার করা হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। বর্ষা মৌসুমে খেলাধুলার অনুপযোগী হবে। মিনি স্টেডিয়ামে কোটি কোটি টাকা অনিয়মে শেষ হয়ে যাচ্ছে।বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান, রবিউল ইসলামসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, মিলন নামের একজন লোককে মাঝে মধ্যে দেখা যায়। তিনি ট্রাক্টর দিয়ে মাঠ ভরাটের কাজ করছেন। সেই কাজটিও থমকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রকল্প শুরুর দুই বছর পার হলেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এখনো স্টেডিয়ামের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি না থাকায় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। এই কাজ থেকে কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে।প্রকল্প কাজের সাইনবোর্ড তথ্যমতে, গত ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ এই মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কাজের নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ৯ মাস। চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে এর নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।অনুসন্ধানে জানা যায়, মাঠের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে ৩টি গ্যালারি এবং একটি অফিস কাম ভিআইপি গ্যালারি নির্মাণ করা হয়েছে। ওই সকল নির্মাণ কাজে পুরাতন রড, এবং নিম্ন মানের সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি। স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজে কোনো শ্রমিককে পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকিউল্লাহ এন্ড ব্রাদার্স প্রতিষ্ঠান ম্যানেজার মিলন হোসেন বলেন, ‘সিডিউল সম্পর্কে তার কিছুই জানা নেই। ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনায় নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তবে ওই ম্যানেজার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পরিচিতি দিতে ব্যর্থতা প্রকাশ করেন।জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মকলেছুর রহমান বলেন, মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ব্যয় বেড়েছে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। আগামী জুন মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে তিনি ব্যক্ত করেছেন। মাটি দিয়ে মাঠ ভরাটের কোনো সুযোগ নেয়। অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।প্রসঙ্গত, মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, মিনি স্টেডিয়ামের কাজ হলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। প্রকল্প সম্পর্কে ইউএনও দপ্তরে কোনো তথ্য নেই এবং এই প্রকল্পের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।