• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ১১ই বৈশাখ ১৪৩৩ বিকাল ০৩:৩০:০০ (24-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর, বিচার নিয়ে কাটেনি অনিশ্চয়তা

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর, বিচার নিয়ে কাটেনি অনিশ্চয়তা

ডেস্ক রিপোর্ট: ভয়াবহ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর আজ। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় শিল্প দুর্ঘটনায় সাভারের রানা প্লাজা ধসে প্রাণ হারান ১১৩৬ জন পোশাক শ্রমিক। আহত হন কয়েক হাজার শ্রমিক। অবহেলায় এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় দীর্ঘ সময় পার হলেও বিচার প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভারে কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়ে হঠাৎ ধসে পড়ে রানা প্লাজা। এই ঘটনায় দেশের তৈরি পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ ও ভবন নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।আলোচিত রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানোর শ্রমিকদের স্মরণে পোশাক শিল্পে শোক দিবস ঘোষণা, রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণসহ নানা দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছে হতাহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রানা প্লাজার সামনে নির্মিত শহীদ বেদীতে মোমবাতি জ্বালিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।পরে নেতাকর্মীরা তাদের বক্তব্যে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন বলেন, ২৪ এপ্রিলকে জাতীয়ভাবে শোক দিবস ঘোষণা করতে হবে, রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করতে হবে, রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল আলম মিন্টু বলেন, ক্ষতিপূরণ বলতে যা বোঝায় তা শ্রমিকরা এখনো পায়নি, দীর্ঘ ১৩ বছরপার হলেও পায়নি ন্যায্য বিচার। সব সরকারই শুধু আশ্বাস দেয়। কেউ আর বিচার নিশ্চিত করে না। তিনি বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কিংবা অন্তবর্তী কালীন সরকার, কেউ গার্মেন্ট মালিক কিংবা ভবন মালিক সোহেল রানার বিচার করেননি, এখন আমরা সবাই আপনার (বর্তমান সরকার) দিকে চেয়ে আছি। অপেক্ষার প্রহর গুনছি, ন্যায় বিচার আর শ্রমিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণের জন্য।বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রতিবছর এই দিনে আমরা নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করি। প্রতিবছরই আমরা একই দাবি তুলে ধরি। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার আমাদের দাবিগুলো পূরণ করবে। ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম, নেতা আবু কালাম, আলী আকবর, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সাভার উপজেলা কমিটির সভাপতি এমদাদুল ইসলাম এমদাদ, সাভার থানা কমিটির সভাপতি কবির খান মনির, সাভার থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন হোসেন মোতালেব, বাংলাদেশ ন্যাশনল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. রাসেল প্রামাণিক।উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ২০১৬ সালে ঢাকার জেলা জজ আদালতে মামলার বিচার শুরু হয়। তবে বিভিন্ন আসামির রিট ও আইনি জটিলতায় ২০২২ সাল পর্যন্ত বিচার কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে আবারও মামলার কার্যক্রম শুরু হলেও অগ্রগতি ধীর।মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষী নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের হাজির করতে বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাক্ষী আদালতে উপস্থিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ হয়নি।এদিকে মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি সোহেল রানার আইনজীবী দাবি করেন, তার মক্কেল নির্দোষ এবং তাকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে।বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নিহতদের পরিবার ও শ্রমিক সংগঠনগুলো হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।