• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ৭ই আষাঢ় ১৪৩৩ রাত ০৩:৫৬:৩৪ (22-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ, নজরে লেবানন, হরমুজ ও পারমাণবিক ইস্যু

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ, নজরে লেবানন, হরমুজ ও পারমাণবিক ইস্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে আজ ২১ জুন রোববার মুখোমুখি বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী ধাপের আলোচনার পথ নির্ধারণই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।২০ জুন শনিবার ইরানের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়াশিংটন থেকে রওনা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার সেখানে পৌঁছে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের আলোচনায় তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—লেবাননের পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।এর মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠেছে লেবাননের সংঘাত। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব হবে না। ইরান এ বিষয়টিকে আলোচনার ‘প্রথম অগ্রাধিকার’ হিসেবে দেখছে এবং সেখানে পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া বৃহত্তর সমঝোতার পথে এগোতে অনীহা প্রকাশ করেছে।হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। শনিবার ইরানের সামরিক কমান্ড ঘোষণা দেয়, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ফলে আলোচনায় এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই কৌশলগত জলপথে উত্তেজনা কমিয়ে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ১৪ দফার সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা তৈরির পথ থেকে দূরে রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নির্ধারণে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আজকের বৈঠকে এই বিষয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনার চাপ রয়েছে।এই সংলাপে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। শুক্রবার লেবাননে নতুন করে সহিংসতা বাড়ার পর আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও কারিগরি পর্যায়ের এই আলোচনায় অংশ নেবেন।সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক এই সংলাপকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনার অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করবে লেবাননের পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক ইস্যুতে দুই পক্ষ কতটা নমনীয় অবস্থান নেয়, তার ওপর।সূত্র: সিএনএন