• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২রা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ দুপুর ০২:২৪:৫৮ (16-May-2026)
  • - ৩৩° সে:
স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে গোপনের চেষ্টা, গ্রেফতার স্ত্রী

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে গোপনের চেষ্টা, গ্রেফতার স্ত্রী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ গোপনের অভিযোগে আসমা আক্তার নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন অংশ ড্রামে ভরে রাখার পর সেগুলো ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের বাসিন্দা আসমা আক্তারের সঙ্গে শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের পরিচয় হয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। প্রায় আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।বিয়ের পর তারা শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। পরে গত বছর জিয়া দেশে ফিরে এলে তারা চন্দ্রপুর এলাকায় আরেকটি বাসায় ওঠেন। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।অভিযোগ রয়েছে, চলতি মাসের ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।পুলিশের দাবি, ঘটনার পর মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে ড্রামে রাখা হয়। পরে কয়েকটি স্থানে সেগুলো ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ১৫ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় মরদেহের কিছু অংশ সরানোর সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মরদেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নড়িয়া এলাকার পদ্মা নদীর তীর থেকেও কিছু অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।নিহতের স্বজন শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, ‘আমার ভাই বিদেশে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে ফেরার পর তারা আলাদা বাসায় থাকতেন। পরে জানতে পারি, তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’অভিযুক্ত আসমা আক্তার পুলিশের কাছে দাবি করেন, তার স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার রাতে তর্কের একপর্যায়ে রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি পড়ে যান। পরে আতঙ্কিত হয়ে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন।পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘মরদেহ গোপনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’