টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি ও বিতর্কের অবসান ঘটেছে। সরেজমিন তদন্ত, প্রশাসনের যাচাই এবং স্থানীয়দের বক্তব্যে তিনি একজন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক বলে নিশ্চিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হাত থেকে কার্ড গ্রহণ করেন ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনসহ ১৫ জন কৃষক। অনুষ্ঠানে তিনি কৃষক হিসেবে বক্তব্যও দেন।


পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু ছবি ভাইরাল হয়। এতে তাকে অপ্রকৃত কৃষক হিসেবে উপস্থাপন করা হলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পাশাপাশি তার পূর্বে পোস্ট করা কিছু এআই-নির্ভর ছবিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, কবির হোসেন একটি সাধারণ টিনশেড ঘরে বসবাস করেন। তিনি বাড়ির সামনে সবজি চাষ এবং পেছনে গরু ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার নিজের প্রায় ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করছেন।
কবির হোসেন বলেন, তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি করেন, আর এআই ছবি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় কৃষক মো. জয়নাল ও কুরবান আলীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, কবির হোসেন মূলত একজন কৃষক এবং পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করেন। এই দুই পরিচয়ের কারণে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী কবির হোসেন প্রান্তিক কৃষক হিসেবে কার্ড পাওয়ার যোগ্য।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, সরেজমিন তদন্তে কবির হোসেনকে প্রকৃত কৃষক হিসেবেই পাওয়া গেছে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, কৃষকদের সম্মানিত করতে সরকারের উদ্যোগকে বিতর্কিত করার যেকোনো অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available