• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২৭শে ফাল্গুন ১৪৩২ বিকাল ০৫:১৬:৪২ (11-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:

বিএনপি সরকারের প্রথম একুশ দিন, আশাবাদের উজ্জ্বল সূচনা

১১ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:০৮:০৯

বিএনপি সরকারের প্রথম একুশ দিন, আশাবাদের উজ্জ্বল সূচনা

মর্নিং শোজ দ্য ডে…….

ক্ষমতার মসনদে বসার পরের কয়েকটি দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। শুরুতে সরকারের নীতি, দিক-নির্দেশনা, অগ্রাধিকার এবং শাসনব্যবস্থার ধরণ দেখে ওই সরকার সম্পর্কে জনগণ প্রাথমিক ধারণা পেতে শুরু করে।

Ad
Ad

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কি ঘটছে? শপথ পরবর্তী বিভিন্ন উদ্যোগ ও মাঠ পর্যায়ে গণমানুষের প্রতিক্রিয়া থেকে বিচার- বিশ্লেষণ করতে চাই তারেক রহমানের নেতৃত্বে ছুটে চলা বাংলাদেশের গতিপথ।

Ad

প্রভাতের সূর্য্য যেমন সন্ধ্যা নামার আগেই রোদ কিংবা ঝড়ের বার্তা বহন করে তেমনি একটি সরকারের ভূমিকা দেখেই উপসংহারের পূর্বাভাস বিচক্ষণ মানুষের মন ও মগজে ধরা দেয়।

১ মাস শেষ না হতেই প্রশাসনিক গতি সঞ্চার, আইন-শৃঙ্খলার কার্যক্রম জোরদার, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং জনগণের আস্থা দৃঢ় করার লক্ষ্যে নানা ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ মানুষের কাছে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। 
ফলে সরকারের কার্যক্রম দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফ্যাসিবাদের মাফিয়াতন্ত্রে দেখা গেছে সামরিক ও বেসমারিক প্রশাসনের টপ টু বটম প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তথা আঙুলের ইশারায় চলতো। 
কিন্তু তারেক রহমান নেতৃত্বে আসায় পরিবর্তিত বাংলাদেশ দেখছে সব শ্রেনী পেশার মানুষ। যেন স্বাধীনতা পরবর্তী মানুষের মনে কোনে সাজিয়ে রাখা স্বপ্নের বাংলাদেশ। যেখানে অচেনা পথিক প্রধানমন্ত্রীকে অবিশ্বাস্য সাধারণ চোখে আবিস্কার করছে ঠিক তেমনি ক্ষমতার শীর্ষে থাকা একেকজন আমলা জবাবদীহিতার ভয়ে তটস্থ। এগুলো সম্ভব হয়েছে কেবল একজন নিখাঁদ দেশ প্রেমিক বাংলা মায়ের সন্তান তারেক রহমানের জন্যই।

সাধারণের মনে ভীতি আর অহংকারের শরীরে চপেঘাত করেছেন তারেক রহমান। প্রথা ভেঙে মানুষের হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে গেছেন তিনি। ট্রাফিক সিগনাল, অচেনা পথিক আর ঢাকার রাজপথ ছোট্ট প্রটোকল নিয়ে চলা নিত্যনতুন একজন ব্যতিক্রম প্রধানমন্ত্রীকে ভিন্নরুপে আবিস্কার করছে আবেগী বাঙালি।

পরিসংখ্যান বলছে। শুধুমাত্র প্রটোকলের বহর ছোট করে ট্রাফিক ব্যবস্থায় দেয়া তারেক রহমানে নিদের্শনায় মাত্র ২১ দিনে ঢাকার সড়কে প্রতি ঘণ্টায় যানবাহনের গড় গতি ৪.৫ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ৫.৩ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। প্রতিদিন যেখানে যানজটের কারণে ৮০ লাখের বেশি কর্মঘণ্টা নষ্ট হতো, সেখানে এই এক উদ্যোগে সাশ্রয় হতে শুরু করেছে প্রতিদিনের কর্মঘণ্টা।

এই কিছুদিন আগেও সড়কে এমন চিত্র দেখা যায়নি। সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের চলাচলের সময় দীর্ঘ সময়ের জন্য রাস্তা, ফুটপাত, এমনকি ফুটওভারব্রিজও বন্ধ করে দেওয়া হতো। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারার ইতি টেনেছেন। তাঁর এই ইতিবাচক উদ্যোগে জনগণের মনোজগতেও পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর সিগন্যাল মেনে ট্রাফিক আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছেন, যা সাধারণ জনগণকেও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করছে।

সীমিত ভিভিআইপি প্রটোকলে, ট্রাফিক সিগন্যালে মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, জনসাধারণের সঙ্গে সেলফি তোলা- সবই জনগণের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনছে।

জনগণ এখন বলছেন, “সরকার জনতার কাতারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে আসা-যাওয়ার সময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বিদায় ও স্বাগত জানানোর যে প্রথা তা বাতিল করেছেন। তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

১০ মার্চ ঢাকার কড়াইল বস্তিতে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সময়ে দেশের ১৪টি স্থানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পাইলট প্রকল্পের শুরুতে ৬৫০০ পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবে, যা পরবর্তীতে পুরো দেশে বিস্তৃত করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্য দূর হবে, ক্ষমতায়ন হবে নারীর।

এরপর ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা কৃষি উপকরণসহ সব ধরনের কৃষি সেবার পাশাপাশি আর্থিক অনুদান পাবেন। শুরুতে দেশের ৮ বিভাগে ৯ উপজেলার ৯ ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারিভাবে পরিচয়পত্র পাবে কৃষকেরা। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের হাতে পৌঁছে যাবে কৃষক কার্ড।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার অনুযায়ী খুব শিগগিরই প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসছে এবং ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর গাইডলাইন অনুযায়ী শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে আলোচনা শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবাপৌঁছে দিতে ৪ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ই-হেলথ কার্ড চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী (৮০ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ পুরুষ) নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি সরকার শপথ নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই সরকারি অফিসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে জনগণের সেবা পাওয়ার সুযোগ অবারিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার ছুটির দিনেও অফিস করায় বেড়েছে সরকারি কাজের কর্মঘণ্টা। শুধু নির্দেশনা নয়, সরকারি কর্মকর্তারা সঠিক সময়ে অফিস করেন কি না তা যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেনমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। অনিয়ম চোখে পড়লে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা।

পোশাক পরিবর্তন করে নয়, বরং কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পুলিশ সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে বড় পরিবর্তন আনার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জাপানের কাছে পুলিশ প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিকিং, প্রযুক্তিও অবকাঠামোগত সহায়তা চেয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

জাপানের পুলিশিং ব্যবস্থাকে মডেল হিসেবে ধরে বাংলাদেশে আধুনিক পুলিশ নীতিমালা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে ৩ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের কার্যকরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর প্রথম ২০ দিনে বড় সংকট ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংঘাত। এ সংঘাতের বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে চাপ সৃষ্টি হলেও তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্চ মাসে স্পট মার্কেট থেকে চার কার্গো এলএনজি কেনার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে এলএনজি আমদানি করতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুধু জ্বালানি ক্রয় নয়, সাশ্রয়ের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সংকটকালে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে অনুৎসাহিত করে জ্বালানি তেল ক্রয়ের সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার, যা যুদ্ধাবস্থায়ও জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকার গঠনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছে, মেরুদণ্ড সোজা রেখে সব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে দেশ চালাবে সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তিক্ততা তৈরি হলেও বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তা কাটতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানিয়েছেন, এতদিন বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া এক রকম বন্ধ থাকলেও ক্রমান্বয়ে এখন থেকে ভিসা দেওয়ার হার বেড়েছে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ২০ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বাংলাদেশ সফর করেছেন, আলোচনা করেছেন বিএনপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তির নানা বিষয় আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার আগেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজ দলের বিজয় মিছিল না করে দেখা করেছেন বিজিত প্রধান দুই দলের দলীয় প্রধানের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে দেখা করেছেন—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর ইফতার পার্টিতে যোগদান এবং এনসিপির এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের যোগদান মূলত প্রতিহিংসা রোধ করে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তা দেয়।

সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শুরু হয় রমজান মাস। ধারণা করা হয়েছিল, এই রমজানে নতুন সরকারের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে ভোক্তাদের কুক্ষিগত করে ফেলবে।  কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত মনিটরিংয়ে তেমনটা হয়নি। রমজানে দুধ, ডিম, পেঁয়াজ, বেগুন, ছোলা ও ভোজ্য তেলের দাম বাড়েনি, দেখা দেয়নি সংকট। একমাত্র পণ্য হিসেবে লেবুর দাম বাড়লেও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে এক সপ্তাহের মধ্যে।

এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রমজানে এলপি গ্যাসের সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে, দাম কমাতে আমদানিকারকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনাও করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রায় ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই জানিয়েছেন, বন্ধ কারখানাগুলোকে পুনরায় চালু করা হবে। পাশাপাশি নীতি সুদহার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এতে করে ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে এত দিন দিননিপাত করলেও এখন বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে বাংলাদেশের শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রণালয়কে। তিনি প্রতি শনিবার শিক্ষা খাতের অগ্রগতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজের খোঁজখবর নেবেন বলেও জানিয়েছেন। শিক্ষার মানের পাশাপাশি শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া নিয়ে কাজ করতে শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারের ওপর আস্থাশীল শিক্ষকরা। তাঁদের সমস্যার সমাধান ও আলোচনা হয়েছে মন্ত্রণালয়ে, রাজপথে নয়। এপ্রিল মাসে এসএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রণালয়, পাশাপাশি বই পরিমার্জনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের আলাদা পেশাগত পরিচয়পত্র নিশ্চিতের মাধ্যমে তাদেরকে ঋণ ও সুদের চাপমুক্ত করতে সরকার শপথ নেয়ার ১০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেন। এতে করে একজন কৃষক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়ার পর তার সুদ যতই হোক না কেন সরকার সুদসহ সেই ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করবে। এখানে কৃষক বলতে শুধু শস্য ও ফসল ফলান যারা তারা নয়, মৎস্য ও পশুপালন করেন যারা তারাও অন্তর্ভুক্ত হবে। এই এক উদ্যোগে বিএনপি সরকার ১৩ লাখ ১৭ হাজার কৃষকের ১৫৬৮ কোটি টাকার সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিলো। এতে করে কৃষক-জেলে-খামারিরা বাঁচলো ব্যাংকের ঋণ ও সুদের চাপের মুখ থেকে যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের কৃষিখাতে।

আগামী সপ্তাহেই রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৫ ব্যাংককে অর্থ ছাড় করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্যাংকগুলো নীরিক্ষার মাধ্যমে আসল ভুক্তভোগী কৃষকদের ঋণ সুদসহ মাফ করবে।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির হিসাবমতে, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে মব সন্ত্রাসের স্বীকার হয়েছেন প্রায় ৫০০ জন, যার মাধ্যে নিহত হয়েছে ২৫০ জনের বেশি। বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম কর্মদিবসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করেন, “আজ থেকে সব ধরণের ‘মব কালচার’ শেষ।” অর্থাৎ প্রথমদিন থেকেই বিএনপি সরকারের বার্তা ছিল আইন ও অনুশাসনের। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই পুলিশের নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকিরও দিয়েছেন একই বার্তা, জানিয়েছেন, কোনোভাবেই আর বাংলাদেশে ‘মব কালচার’, গণ পিটুনি চলবে না। গণতান্ত্রিকভাবে মানুষ তার ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবে কিন্তু মব সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাবে না।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিএনপি সরকারের অবস্থান শুরু থেকেই ছিল জিরো টলারেন্স। এই অবস্থান ধরে রেখে ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিগগিরই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান শুরু করবে সরকার। এছাড়া নির্বাচিত হওয়ার পরপরই বিএনপির বিভিন্ন সংসদীয় আসনের এমপিরা নিজ জেলায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মাইকিং করেছেন, পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন। পুলিশ বাহিনী মাঠে সক্রিয় আছে সরকার গঠনের শুরু থেকেই। বিশেষ করে চাঁদাবাজির জন্য মোহাম্মদপুর এলাকায়কুখ্যাত চাঁদাবাজকে আটক করে তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুরো এলাকা ঘুরিয়ে চাঁদাবাজারের বিরুদ্ধে পুলিশের মাইকিং নজর কেড়েছে অনেকের, স্বস্তি এনেছে এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে ডিসেম্বর মাসে সবচেয়ে নেক্কারজনক ঘটনা ছিল বাংলাদেশের প্রথম সারির দুটি গণমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ। রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে একটি গোষ্ঠী সাংবাদিক হত্যার উদ্দেশ্যে এই দুটি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি নির্বাচনের আগে, সরকার গঠনের আগে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করে আসছে। সরকার গঠনের পরে ১০ দিনের মাথায় প্রথম আলো ভবন পরিদর্শন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ২ মাসের মধ্যে এই হামলার তদন্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হবে। দুর্বৃত্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

একই দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, কোনোদিনও যেন বাংলাদেশের কোনো গণমাধ্যমে কেউ হামলা করে পার পেয়ে যেতে না পারে তা এই হামলার বিচারের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হবে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনীতে চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। অন্তবর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেও পুলিশের চেইন অব কমান্ডে তেমন উন্নতি হয়নি। বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেয়ার প্রথম ২০ দিনের মধ্যে এই বাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক আদেশে জানিয়েছেন, এখন থেকে চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা তার ইমিডিয়েট সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে এরচেয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাকে ফোন করতে পারবেন না। তবে কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে তার জুনিয়র কর্মকর্তাকে ফোন করতে পারবেন। এই এক সিদ্ধান্তে পুরো পুলিশ বাহিনীতে বড় গাঠনিক পরিবর্তন এসেছে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে।

সকালের সুরর্যের ন্যায় দ্যুতি ছাড়নো কর্মযজ্ঞে জনগণ বুঝতে পারছে-নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে ব্যতিক্রমী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে।

লেখক. বাতেন বিপ্লব, সাংবাদিক ও বিশ্লেষক

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ


হরমুজ প্রণালিতে তিন কার্গো জাহাজে হামলা
হরমুজ প্রণালিতে তিন কার্গো জাহাজে হামলা
১১ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৪:০৬






রাজধানীতে দেয়াল ধসে ২ শিশুর মৃত্যু
রাজধানীতে দেয়াল ধসে ২ শিশুর মৃত্যু
১১ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:০৯:৪৮




Follow Us