কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: অল্প খরচে অধিক ফলন এবং বাজারে ভালো দামের কারণে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের মধ্যে হলুদ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নিশ্চিন্তপুর হলুদ হাটে, যেখানে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
স্বাধীনতার আগে প্রতিষ্ঠিত নিশ্চিন্তপুর হলুদ হাটটি এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ হলুদ বাণিজ্যকেন্দ্র। বর্তমানে এখানে ৬০টিরও বেশি হলুদের আড়ৎ রয়েছে। প্রতি বছরই বিভিন্ন নামকরা কোম্পানি এখান থেকে হলুদ সংগ্রহ করে থাকে।


উপজেলার আলায়পুর গ্রামের চাষি কদর আলী জানান, চৈত্র মাস হলুদের কন্দ রোপণের উপযুক্ত সময়। নির্দিষ্ট দূরত্ব ও গভীরতায় কন্দ রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। প্রতি হেক্টরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কেজি কন্দ প্রয়োজন হয়।

হলুদ একটি জনপ্রিয় মসলা ফসল হওয়ার পাশাপাশি এর রয়েছে নানা ভেষজ গুণ। রান্নায় স্বাদ ও রঙ বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্বকের যত্ন, ক্ষত সারানো, সর্দি-কাশি ও জ্বরসহ নানা রোগে এটি উপকারী।
হলুদ চাষি ও ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছি। বর্তমানে দেশি হলুদের দাম প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২২০ টাকা এবং বিদেশি হলুদ ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
হলুদ হাটের আড়ৎদার তপন কুমার বাটুল জানান, হাটটিতে কয়েকটি বড় হলুদ মিল রয়েছে এবং প্রায় ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সপ্তাহে সোম ও শুক্রবার হাট বসলেও অন্যান্য দিনেও আড়তে বেচাকেনা চলে।
প্রতি বছর সরকারি ইজারার মাধ্যমে পরিচালিত এই হাট থেকে সরকার নিয়মিত রাজস্ব আয় করছে। এখানকার হলুদ সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
বর্তমানে শুকনা হলুদ, কুচি ও আধাকাটা হলুদের দামও সন্তোষজনক। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা আগের তুলনায় বেশি লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে হলুদ চাষ হচ্ছে। কম খরচ ও সহজ পরিচর্যায় ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ ফসল চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এবছর ফলনও হয়েছে আশানুরূপ, যা কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available