• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ৩রা আষাঢ় ১৪৩৩ রাত ১০:৫১:৪৮ (17-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

১৭ জুন ২০২৬ রাত ০৮:৫৭:৩৯

শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: সরকার দেশের শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটে এবছর শিক্ষা খাতে জিডিপির দুই শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত এই বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানবসম্পদ। যা গড়ে তুলেন শিক্ষকেরা। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অপরিহার্য। সেজন্য সরকার দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

১৭ জুন বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশকে একটি আনন্দময় শিক্ষায় নিয়ে যেতে চাই। সেজন্য শ্রেণিকক্ষে আনন্দময় শিক্ষা বা ‘লার্ন উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণা পাঠ্যবইয়ের সিলেবাস ও কারিকুলামে সংযোজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সেই দিন আসবে, যেদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। এই প্রত্যয় নিয়ে আজ যারা পুরস্কৃত হয়েছেন, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে যারা এই পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন, তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করি, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৮০০ শতাব্দীতে এটি ব্রাহ্ম স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। স্বাধীনতার পর এটি জগন্নাথ কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন। আমি যখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলাম, তখন এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বহু বৈঠক করতে হয়েছে। কীভাবে নীতিমালা নির্ধারণ করা হবে, কীভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে সংগঠিত করা হবে, সে বিষয়ে আমরা কাজ করেছি। শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, আমি যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম, তখন পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণ নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। ১ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিতে হতো। আমার মনে আছে, একদিন গভীর রাতে হামিদ, সাত্তার, টিপু ও পারভেজদের সঙ্গে বাংলাবাজারে বই চোরাচালান রোধে অভিযান চালিয়েছিলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় আমরা সে কার্যক্রম বন্ধ করতে সক্ষম হই।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৬ দিনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও নেতৃত্বের গুণাবলি ছিল অসাধারণ। শিক্ষা খাতে তাঁর দূরদর্শিতা এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যেখানে আমরা এখনও পুরোপুরি পৌঁছাতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। শিক্ষার প্রসারে তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পরবর্তীতে ‘টাকার বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচিও চালু করেন। তিনি মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি চালু করেন এবং তা উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন। তখন তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) বলেছিলেন আবার দায়িত্ব পেলে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি দেবেন। কিন্তু তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েক দিন আগে ঘোষণা দিয়েছেন যে ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি প্রদান করা হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখনে ডিনস অ্যাওয়ার্ড কমিটি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. পরিমল বালা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর মোর্শেদ ভুঁইয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ











Follow Us