• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ৩১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ রাত ০৯:১৮:৪৯ (14-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, ইতিহাস গড়লেন ইরানকুন্ডা

১৪ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:২৯:২৬

শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, ইতিহাস গড়লেন ইরানকুন্ডা

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। ম্যাচের প্রথম গোলটি করে তিনি শুধু দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দেননি, বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন।

তুরস্কের বিপক্ষে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৭তম মিনিটে গোল করেন ইরানকুন্ডা। পল ওকোন-ইঙ্গস্টলারের দীর্ঘ পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের শটে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। ২০ বছর ১২৫ দিন বয়সে করা এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড।

ইরানকুন্ডার জীবনের গল্পও কম অনুপ্রেরণাদায়ক নয়। ২০০৬ সালে তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা-মা বুরুন্ডির নাগরিক ছিলেন এবং গৃহযুদ্ধের কারণে দেশ ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রতিবেশী তানজানিয়ায়। শৈশবে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান ইরানকুন্ডা, সেখানেই ফুটবলের মাধ্যমে নতুন জীবনের সূচনা হয় তার।

অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব একাডেমিতে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে দ্রুতই আলোচনায় আসেন তিনি। গতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং আক্রমণভাগে কার্যকর পারফরম্যান্সের কারণে নজর কাড়েন ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর। অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের সিনিয়র দলে ১৬ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করার পর ২০২৪ সালে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন।

যদিও বায়ার্নের মূল দলে খেলার সুযোগ পাননি, তবু ক্লাবটির পরিবেশ এবং শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছে। পরে নিয়মিত খেলার লক্ষ্যে তিনি সুইজারল্যান্ডের গ্রাসহপার ক্লাবে ধারে খেলেন এবং পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন।

এক সাক্ষাৎকারে ইরানকুন্ডা বলেছিলেন, ‘এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু আমার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। নিয়মিত খেলার প্রয়োজন ছিল এবং আমি সেটিই খুঁজছিলাম।’

সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার জন্য সফলতা বয়ে আনে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়া দলে সুযোগ পাওয়ার পর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ফিলিস্তিনের বিপক্ষে গোল করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় দলে নিজের জায়গা পোক্ত করে নেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে তুরস্কের বিপক্ষে গোল করে এবার নিজের নাম লিখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে। শরণার্থী শিবির থেকে শুরু হওয়া এক সংগ্রামী যাত্রা বিশ্বকাপের আলোয় এসে পৌঁছেছে, যা নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্যও অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ










সৌদি থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৫ হাজার ১৩৩ হাজি
সৌদি থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৫ হাজার ১৩৩ হাজি
১৪ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:২৬:২০

Follow Us