• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৩শে মাঘ ১৪৩২ রাত ০৩:৩০:৪১ (06-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত ২৩

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত ২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন মধ্যস্থতায় গাজা উপত্যকায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর একটি পার করেছে ফিলিস্তিনিরা। ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত চার মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধবিরতির সময়েই এখন পর্যন্ত ৫২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানায়, বুধবার নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুও রয়েছে। গাজা শহরের তুফাহ ও জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি গোলন্দাজ হামলায় কমপক্ষে ১৪ জন প্রাণ হারান।এ ছাড়া দক্ষিণ গাজার কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে হামলায় চারজন নিহত হন। উপকূলীয় এলাকায় স্থাপিত একটি তাঁবু শিবিরে চালানো বিমান হামলায় আরও দুইজন নিহত হন। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে হুসেন হাসান হুসেন নামে একজন প্যারামেডিকও রয়েছেন।আল জাজিরার প্রতিনিধি তারেক আবু আযজুম জানান, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই আবাসিক ভবনগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের অবিরাম শব্দে গাজার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তর গাজায় নিয়মিত অভিযানের সময় তাদের এক রিজার্ভ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর সাঁজোয়া যান ও বিমান সহায়তায় পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েল ‘হলুদ রেখা’ নামে পরিচিত তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সীমানা পরিবর্তন করছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রেড ক্রসের মাধ্যমে ৫৪ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ এবং ৬৬টি বাক্সে সংরক্ষিত মানবদেহের অংশ হস্তান্তর করেছে। মেডিকেল টিমগুলো এসব দেহাবশেষ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।ইসরায়েলি অবরোধ ও কড়াকড়ির কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর এ সপ্তাহে রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে খুললেও রোগী স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় জটিলতা কাটেনি। বুধবার সমন্বয়হীনতার কথা বলে রোগীদের তৃতীয় একটি দলকে গাজা ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে আল জাজিরা জানায়, দীর্ঘসূত্রতার পর স্থানান্তর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ফিলিস্তিনি রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।