সিঁধ কেটে অসহায় হাসিনা বেগমের শেষ সম্বল চুরি
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার এক সংগ্রামী নারীর জীবনে নেমে এসেছে নতুন করে দুঃখের ছায়া। দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন মোসা. হাসিনা বেগম।২৪ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় গোপালদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা ঘরের পেছনের দেয়াল সিঁধ কেটে ভেতরে ঢুকে প্রায় দেড় লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।জানা যায়, ২০১৬ সালে স্বামী মো. নূর হোসেন সিকদারের মৃত্যুর পর থেকেই তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে কঠিন জীবনযুদ্ধে নামেন হাসিনা বেগম। ছেলে হাসান (২৫), মেয়ে কুলসুম আক্তার (২৫) এবং ছোট মেয়ে মরিয়ম বেগম (১১) এই তিন সন্তানকে নিয়ে তার প্রতিদিনের লড়াই।অভাবের মধ্যেও হাল ছাড়েননি তিনি। মানুষের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে আত্মসম্মান বজায় রেখে একটি গরু দিয়ে শুরু করেন ছোট উদ্যোগ। ধীরে ধীরে সেই গরু বাড়িয়ে সংসারের হাল ধরেন।সম্প্রতি জরাজীর্ণ ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় নতুন ঘর তৈরির পরিকল্পনা করেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণে ২৩ এপ্রিল ঠাকুরহাট বাজারে গিয়ে নিজের সবচেয়ে বড় গরুটি বিক্রি করে প্রায় দেড় লাখ টাকা পান। ব্যাংক বন্ধ থাকায় টাকাটি ঘরেই রেখে দেন।কিন্তু পরদিন গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে পুরো টাকাটি চুরি করে নিয়ে যায়। এক রাতেই ভেঙে যায় তার নতুন ঘর তৈরির স্বপ্ন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসিনা বেগম বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর ১০ বছর ধরে কষ্ট করে সংসার চালিয়েছি। গরু লালন-পালন করে টাকা জমিয়েছিলাম নতুন ঘর করার জন্য। কিন্তু সেই টাকাও চুরি হয়ে গেল। এখন তিনটা প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে কোথায় যাবো?’তিনি আরও জানান, থানায় অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন এতে এলাকায় শত্রুতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। তাই শেষ ভরসা হিসেবে আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন এই অসহায় মা।স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়নি, বরং সমাজে মানবিকতার প্রশ্নও তুলেছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।