• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১৬ই ভাদ্র ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৬:৫২:২০ (31-Aug-2025)
  • - ৩৩° সে:
সংবাদ ছবি

২০১২ সালে নিখোঁজ হওয়া ইবির দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন

ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নিখোঁজ হওয়া দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের আল মুকাদ্দাসের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামি ছাত্রশিবির, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের নিকট গুম হওয়ার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।৩০ আগস্ট শনিবার দুপুর দেড়টায় আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঘুম হওয়া শিক্ষার্থীদের ফিরে পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আওয়ামী শাসনামলে ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ওয়ালিউল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাসকে গুম করা হয়। দীর্ঘ ১৩ বছর বিগত সরকার তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়নি। সরকার পতনের পর গুম হওয়া অনেকে ফিরে এলেও ইবির এই দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান মেলেনি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১ বছর হয়ে গেছে তাও সুরাহা নাই।তারা আরও বলেন, আমাদের দুই ভাই কী কারণে এবং কোথায় গুম করা হয়েছে সব কিছু উদ্ঘাটন করতে বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে যারা গুম হয়েছে তাদের ব্যাপারে বর্তমান সরকার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক তদন্ত করে যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির দাবি জানাই।এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ'র বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ। আবেগ জড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, ওয়ালীউল্লাহ ও মুকাদ্দাসের স্মৃতিবিজড়িত এই ক্যাম্পাসে যখন  আসি তখন আমার পা চলে না।আমার পা কাঁপে, আমি অস্থির হয়ে উঠি। আমি যার সাথেই কথা বলি আমার কণ্ঠ কেঁপে উঠে। আমার হৃদয় কেঁপে উঠে। ক্যাম্পাসে আসার সময় আমি আমার মা-বাবার সাথে দেখা করে আসতে পারি না। কারণ তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কখনো এ কথা বলতে পারি না, যে আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি।তিনি জানান, কোনো শত্রুরও এরকম অবস্থা হোক এটা কামনা করা উচিত নয়। কেউ যদি কোন অপরাধের সাথে জড়িতও থেকে থাকে তাকে আইনি প্রক্রিয়া বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু এ ধরনের গুম হত্যা একটি জাতিকে ডুবিয়ে দেয়। একটি জাতির ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধকে বাধাগ্রস্ত করে। সুতরাং যখন যারা দেশ পরিচালনা করুক তারা যেন মনে না করে, এই ঘটনা তাদের সাথে ঘটবে না।তিনি দাবি জানান, আমার বাবা বার বার বলেন, ‘তারা বেঁচে আছেন না মারা গেছেন? যদি তারা মারা যায় তাহলে আমাদেরকে তাদের কবর দেখিয়ে দিক যাতে আমরা দোয়া করতে পারি।’ তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। বর্তমান প্রশাসনের কাছে আবেদন আপনারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেন।শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমার ভাইদের খুঁজে পাওয়ার জন্য আমরা সকল চেষ্টা করেছি, কিন্তু আপনাদের জায়গা থেকে কতটুকু চেষ্টা করা হয়েছে, আমার মনে হয় সেটা শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। আপনারা এখনো যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেননি। শুধুমাত্র গুম কমিশন গঠন করেছেন। যেটা এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি। কেন পারেনি এটা খতিয়ে দেখা দরকার।ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, তারা একসাথে ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী (হানিফ এন্টারপ্রাইজের ৩৭৫০ নম্বর) বাসে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছিলেন। সূত্র মতে বাসটি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৮ থেকে ১০ জন আল মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহকে নামিয়ে নিয়ে যান। মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ ক্যাম্পাসে না ফেরায় তাঁদের বন্ধুরা পরিবারকে জানান। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির করেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তারা ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।