রাঙামাটি প্রতিনিধি : রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করা প্রায় ২৭ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে কৃষি কার্ডের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর ফলে এসব জেলে এখন থেকে ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন আর্থিক ও প্রণোদনা সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
৬মে বুধবার রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদ এলাকায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং জেলেদের মাঝে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।


অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নুরুজ্জামান, বিজিবি রাঙামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাপ্তাই হ্রদের মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। এ সময়টিতে জেলেদের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফের মাধ্যমে খাদ্যশস্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি জেলেদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং আইন মেনে চলতে হবে। এতে করে ভবিষ্যতে হ্রদে মাছের উৎপাদন বাড়বে, আপনারা বেশি আয় করতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কাপ্তাই হ্রদ দেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাশয়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ মাছ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকার ইতোমধ্যে হ্রদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, আধুনিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
জেলেদের কৃষি কার্ডের আওতায় আনা হলে তারা কৃষি খাতের মতোই সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি এবং বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পাবে, যা তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং সামগ্রিকভাবে মৎস্য খাতকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতনমহল।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available